Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

ভোটদানে ত্রিপুরাকে পিছনে ফেলল বাংলা

ভোটদানে ত্রিপুরাকে পিছনে ফেলল বাংলা

তেরো বছরের পুরনো জাতীয় রেকর্ড ধুলোয় মিশিয়ে দিল পশ্চিমবঙ্গ। দেশের বিধানসভা নির্বাচনের ইতিহাসে সবথেকে বেশি ভোটদানের নজির গড়ল এই রাজ্য। দ্বিতীয় দফার শেষে বাংলার বুথে বুথে আছড়ে পড়ল জনজোয়ার। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পরিসংখ্যান বলছে, এ রাজ্যে ভোট পড়েছে ৯২.৪৭ শতাংশ। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত হিসেব এলে এই হার আরও বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল। প্রথম ও দ্বিতীয় দফা মিলিয়ে বাংলার সামগ্রিক ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৯২.৮৫ শতাংশ। এর আগে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ত্রিপুরার দখলে। ২০১৩ সালে সেখানে ৯১.৮২ শতাংশ ভোট পড়েছিল। দীর্ঘ ১৩ বছর সেই রেকর্ড অক্ষত থাকলেও এবার তা ম্লান করে দিল পশ্চিমবঙ্গ।

 

প্রথম দফার ১৫২টি আসনে গত ২৩ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হয়েছিল। সেদিনই বাংলায় ভোট পড়েছিল ৯৩.১৯ শতাংশ। বাংলার এই উৎসাহ দেখে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে এত ভোট কখনও পড়েনি।’ উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে সাধারণত ভোটের হার বেশি থাকে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালে নাগাল্যান্ডে ৯১.৫৩ শতাংশ ও ১৯৯৫ সালে মণিপুরে ৯১.৪১ শতাংশ ভোট পড়েছিল। মেঘালয়ে ২০০৮ সালে এই হার ছিল ৮৮.৯৯ শতাংশ। ২০২৪ সালে অরুণাচলে ৮২.২৯ শতাংশ এবং ১৯৯৯ সালে সিকিমে ৮১.৮৩ শতাংশ ভোট পড়েছিল। ১৯৮৯ সালে মিজোরামের সর্বোচ্চ রেকর্ড ৮১.৩০ শতাংশ। এমনকি ২০২৬ সালে অসমেও ৮৫.৩৮ শতাংশ ভোটের নতুন নজির তৈরি হয়েছে। দক্ষিণের পুদুচেরীতে এবার ভোট পড়েছে ৮৯.৮৩ শতাংশ এবং তামিলনাড়ুতে ৮৫.১ শতাংশ। কেরলে ১৯৬০ সালে ৮৫.৭২ শতাংশ ভোট পড়ার ইতিহাস রয়েছে।

 

তবে উত্তর ও পশ্চিম ভারতের চিত্রটা ভিন্ন। বিধানসভা ভোটে দেশের সর্বনিম্ন ভোট পড়ে উত্তরপ্রদেশে, ২০১৭ সালে যা ছিল মাত্র ৬১.০৪ শতাংশ। বিহারে ২০২৫ সালে ৬৬.৯৮ শতাংশ ও দিল্লিতে ১৯৭২ সালে ৬৮.৮৬ শতাংশ ভোট পড়েছিল। জম্মু ও কাশ্মীরে ১৯৮৭ সালের ৭৪.৮৮ শতাংশ ভোটই এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ। তুলনায় বাংলা এবার যা করে দেখাল, তা কার্যত অবিশ্বাস্য। সব রেকর্ড ওলটপালট করে দিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে সেরার শিরোপা ছিনিয়ে নিল পশ্চিমবঙ্গ। দিনভর লাইনে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ বুঝিয়ে দিলেন, ব্যালট বা ইভিএমের লড়াইয়ে তাঁরাই আসল নির্ণায়ক। কমিশনের চূড়ান্ত তালিকার জন্য এখন অপেক্ষা করছে রাজনৈতিক মহল।

READ MORE.....