জলপাইগুড়ির প্রত্যন্ত সরস্বতীপুর চা বাগান। দেড় দশক আগেও এই এলাকায় খেলাধুলোর অধিকার ছিল কেবল ছেলেদের। মেয়েদের জন্য বরাদ্দ ছিল পড়াশোনা আর ঘরের কাজ। ২০১৩ সালে কলকাতার একটি সংস্থার উদ্যোগে বদলে যায় সেই চেনা ছবি। মেয়েরাও নেমে আসে খেলার মাঠে, তাও আবার ফুটবল বা ক্রিকেটের মতো পরিচিত কোনও খেলায় নয়, রাগবিতে। যে খেলা সরস্বতীপুর তো বটেই, দেশের বড় শহরগুলোতেও তেমন পরিচিত ছিল না। তখন বছর তেরোর সন্ধ্যা রাই বাগানের অন্য মেয়েদের মতোই প্রথম হাতে তুলে নেন রাগবির বল।
সেদিন তিনি কল্পনাও করতে পারেননি, এই খেলাই একদিন বদলে দেবে তাঁর জীবনের গতিপথ এবং পৌঁছে দেবে এশিয়ান গেমসের মঞ্চে, তাও একবার নয়, একাধিকবার।আসন্ন এশিয়ান গেমসের রাগবি সেভেন্স বিভাগে ভারতীয় দলে বাংলা থেকে একমাত্র প্রতিনিধি শিলিগুড়ি থেকে প্রায় পঁয়ত্রিশ কিলোমিটার দূরের এই বাগানের বাসিন্দা সন্ধ্যাই। টানা দ্বিতীয়বার এই ইভেন্টে অংশ নিতে চলেছে ভারত, আর গতবারের মতো এবারও দলে রয়েছেন তিনি। সন্ধ্যা জানান, গতবারের এশিয়াডের অভিজ্ঞতা এবার কাজে লাগাতে চান তিনি, কারণ সেখানে দেশের অন্য তারকা ক্রীড়াবিদদের দেখে যা শিখেছিলেন, তা পরবর্তীতে মাঠে কাজে লেগেছে।সাইয়ের কলকাতা ক্যাম্পাসে চলছে দলের প্রস্তুতি।
কয়েক বছর আগে সাই ও রাগবি ইন্ডিয়ার উদ্যোগে প্রথমবার বিদেশি কোচ আসার পর থেকে এশীয় পর্যায়ে নিয়মিত প্রথম ছয়ে থাকছে ভারতীয় দল। সন্ধ্যা জানান, গতবার তাঁরা সপ্তম হয়েছিলেন, কিন্তু এবার প্রস্তুতি আরও ভালো হয়েছে। সম্প্রতি থাইল্যান্ডে গিয়ে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলেছেন তাঁরা, জাপানেও ক্যাম্প করেছেন। কোচ টেরেন্স জোসেফ ও স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ কিয়ানো ফৌরির তত্ত্বাবধানে চলছে অনুশীলন। বুধবার দলের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সাইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় ডিরেক্টর শিবানন্দ মিশ্রা। যা সত্যিই গর্বের বিষয়।














