২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনেই জয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গুজরাটের ভাদনগরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এমনই বার্তা দিলেন তিনি। তাঁর দাবি, আগামী লোকসভা নির্বাচনে বাংলার ৪২টি আসনই বিজেপির ঝুলিতে তুলে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উপহার দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই লড়াই করবে বঙ্গ বিজেপি।
মোদীর প্রশাসনিক জীবনের দীর্ঘ পথচলা উপলক্ষে গুজরাটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নেতাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য তাঁর পূর্বনির্ধারিত পাহাড় সফরের কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনা হয় বলে জানা গিয়েছে। গুজরাটের মাটিতে দাঁড়িয়েই বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আগামী লোকসভা নির্বাচনের কৌশল নিয়ে তাঁর বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে। বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের পূর্বতন তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, বিগত সরকারগুলির ভুল নীতি এবং তোষণের রাজনীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গ দীর্ঘ সময় ধরে উন্নয়নের দৌড়ে পিছিয়ে ছিল। তাঁর দাবি, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বাংলায় দ্রুত উন্নয়নের কাজ এগিয়ে চলেছে। শুভেন্দু বলেন, বিগত সরকারগুলির ভুল নীতি ও তোষণের রাজনীতির কারণে বাংলা বহু বছর ধরে পিছিয়ে পড়েছিল। কিন্তু বর্তমানে মোদীজির দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলায় অত্যন্ত দ্রুত গতিতে উন্নয়নের কাজ এগোচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের প্রসঙ্গও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা থেকে আয়ুষ্মান ভারত—একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির লক্ষ্য যে শুধুমাত্র আসনসংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং রাজ্যের সবকটি আসন দখল করা, সেই বার্তাও স্পষ্ট করে দেন। শুভেন্দুর কথায়, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা থেকে শুরু করে আয়ুষ্মান ভারতের মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুফল পাচ্ছেন রাজ্যের প্রতিটি স্তরের নাগরিকরা। তাই আগামী ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনে মোদীজির নেতৃত্বে বাংলার ৪২টি আসনের সবকটিই তাঁকে উপহার দেওয়ার জন্য আমরা সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করব। তবে ‘৪২-এ ৪২’ স্লোগান বাংলার রাজনীতিতে নতুন নয়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসও রাজ্যের ৪২টি আসনেই জয়ের লক্ষ্য সামনে রেখেছিল। যদিও ভোটের ফলাফল সেই লক্ষ্যের সঙ্গে মেলেনি।
২০২৪ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২৯টি আসনে জয়ী হয়। বিজেপি পায় ১২টি আসন এবং কংগ্রেস জয় পায় একটি আসনে। এর আগে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপি ১৮টি আসনে জয়লাভ করেছিল। ফলে ২০২৪ সালে আসনসংখ্যা কমে যাওয়ার পর আগামী নির্বাচনে সেই জায়গা পুনরুদ্ধার করাই বিজেপির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। তার উপর ৪২টি আসনেই জয়ের লক্ষ্য ঘোষণা করে রাজনৈতিক লড়াইকে আরও উচ্চমাত্রায় নিয়ে গেলেন শুভেন্দু। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ৪২টি আসনে জয় পাওয়ার লক্ষ্য বাস্তবে পূরণ করা বিজেপির সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। কারণ রাজ্যের প্রতিটি আসনের রাজনৈতিক সমীকরণ এক নয়।
কোথাও তৃণমূলের সংগঠন শক্তিশালী, কোথাও বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক তুলনামূলকভাবে দৃঢ়। ফলে ২০২৯-এর আগে সংগঠন শক্তিশালী করা, বুথস্তরে প্রস্তুতি বাড়ানো এবং মানুষের কাছে কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বার্তা পৌঁছে দেওয়াই বিজেপির অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে। গুজরাট থেকে শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘৪২-এ ৪২’ বার্তা ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের এখনও সময় রয়েছে। তার আগেই বাংলার ৪২টি আসনকে কেন্দ্র করে বিজেপির এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।















