Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

বোলারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরব গম্ভীর

বোলারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরব গম্ভীর

ভারতীয় বোলারদের সাধারণ মানে নামিয়ে এনে রাঁচীতে অবিস্মরণীয় জয় ছিনিয়ে নিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। ভারতের তোলা ২৪৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শাই হোপের বিধ্বংসী অপরাজিত শতরান এবং শেরফেন রাদারফোর্ডের ঝোড়ো ইনিংসের ওপর ভর করে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ার অনন্য রেকর্ড গড়ল ক্যারিবিয়ান বাহিনী। এই ঐতিহাসিক জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা ফেরাল সফরকারী দল। তবে ব্যাটারদের এই তাণ্ডবের পর আধুনিক ক্রিকেটের পিচ ও বোলারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। অন্যদিকে, ভারতের বোলিং পরিবর্তন নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন কিংবদন্তি সুনীল গাওস্কর।

 

শুক্রবার রাঁচীর জেএসসিএ স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে পাঁচ উইকেটে ২৪৯ রান তোলে ভারত। কিন্তু সেই পাহাড়প্রমাণ লক্ষ্যও নিরাপদ রাখতে পারেননি ভারতীয় বোলাররা। মাত্র ১৮.৩ ওভারে চার উইকেট হারিয়েই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এর চেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়ের নজির রয়েছে কেবল একটি—২০২৩ সালে সেঞ্চুরিয়নে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের তোলা ২৫৮ রান তাড়া করে জয় পেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। দুই ইনিংস মিলিয়ে এ দিন ওঠে ৫০১ রান ও ৩৩টি ছক্কা, যা টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ম্যাচ-অ্যাগ্রিগেট। ক্যারিবিয়ানদের জয়ের নায়ক অধিনায়ক শাই হোপ মাত্র ৪৫ বলে খেলেন অপরাজিত ১০২ রানের এক অনবদ্য ইনিংস। ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টিতে এটিই যৌথ দ্রুততম শতরান।

 

মাত্র ছ’দিনের ব্যবধানে একদিনের ম্যাচে অপরাজিত ১৬২ রানের পর টি-টোয়েন্টিতে শতরান হাঁকিয়ে এক বিরল নজিরও গড়েছেন তিনি। চতুর্থ উইকেটে শেরফেন রাদারফোর্ডের (৩৭ বলে ৮৪) সঙ্গে ১২০ রানের জুটি গড়ে ম্যাচ ভারতের হাত থেকে ছিনিয়ে নেন হোপ। শেষ লগ্নে রোমারিও শেফার্ড ১৩ বলে অপরাজিত ৩৪ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। এই পরাজয়ের সঙ্গে সঙ্গেই অধিনায়ক হিসেবে শ্রেয়স আইয়ারের টানা দশ ম্যাচ অপরাজিত থাকার দৌড়ও থেমে গেল। ব্যাটারদের এই দাপটের পর পিচের চরিত্র নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন ভারতীয় দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। তিনি বলেন, “ব্যাট ও বলের মধ্যে কি কোনো লড়াই থাকবে না? এই বোলাররা আমাদেরই দেশের সম্পদ। ওদের কেরিয়ার আজ সঙ্কটের মুখে। কঠোর পরিশ্রম করে ওরা জাতীয় দলের সাজঘরে জায়গা পেয়েছে। বোলারদের জন্য কিছু না থাকলে ক্রিকেটের আকর্ষণই নষ্ট হয়ে যাবে।”

 

তবে পিচ ও শিশিরের প্রতিকূলতা সত্ত্বেও হোপ ও রাদারফোর্ডের বিশ্বমানের ব্যাটিংয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। প্রথম ওভারে জোড়া উইকেট এবং মায়াঙ্ক যাদবের আগুনে গতি (৩/৩৬) ছাড়া ভারতের বোলিংয়ে ইতিবাচক দিক প্রায় ছিল না বললেই চলে। ভারতের এই হারে রণকৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুনীল গাওস্কর। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অক্ষর পটেল বা শিবম দুবেকে বোলিংয়ে আনার সিদ্ধান্তকে কাঠগড়ায় তুলে তিনি জানান, মায়াঙ্ক যখন শুরুতেই তিনটি উইকেট নিয়ে ধাক্কা দিয়েছিল এবং উইকেট নেওয়ার মতো জায়গায় ছিল, তখন তাঁকে বা আরশদীপ সিংহকে আরও আক্রমণাত্মকভাবে ব্যবহার করা উচিত ছিল। নবম ওভারে কুলদীপ যাদবকে বল না দিয়ে দুবেকে আনাও ভুল পদক্ষেপ বলে মনে করেন সানি। আগামী রবিবার ইন্দোরে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে নামবে ভারত।

READ MORE.....