মাণ্ডি হাউসের ছাত্র জমায়েতকে কনট প্লেসের অন্য এক সংগঠনের কর্মসূচির সঙ্গে এক বন্ধনীতে পুরে দশ হাজার টাকার বন্ড আদায়ের কৌশল শেষ পর্যন্ত ধাক্কা খেল খোদ দিল্লি হাইকোর্টে। শান্তিরক্ষার দোহাই দিয়ে পাঠানো তলবি নোটিস এবং রাতভর বেআইনি আটকের অভিযোগ তুলে সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হলেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেত্রী নেহা বোরা। তাঁর সাফ বক্তব্য, কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে নাগরিক অধিকার মঞ্চ সিজেপি-র ডাকা কর্মসূচির সঙ্গে তাঁর দূরদূরান্তের কোনও যোগ ছিল না।
অথচ সেই দায় তাঁর ঘাড়ে চাপিয়েই মোটা অঙ্কের ব্যক্তিগত বন্ড ও জামিনদার চেয়েছে পুলিশ। বিচারপতিদের এজলাসে ছাত্রনেত্রীর পক্ষে জোরালো সওয়াল পেশ করেন বর্ষীয়ান কৌঁসুলি গোপাল শঙ্করনারায়ণন। তিনি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, “সেন্ট্রাল পার্কের জমায়েতের সঙ্গে বোরার কোনও যোগ নেই, উনি মাণ্ডি হাউসে নিজের পূর্বঘোষিত জমায়েতে শামিল ছিলেন।” অন্য সংগঠনের কর্মসূচির জের টেনে কাউকে মাঝরাতে তুলে নিয়ে যাওয়া এবং পরে শান্তিরক্ষার নামে মুচলেকা দাবি করা চরম বেআইনি পদক্ষেপ বলেই দাবি করেন তিনি।
আইনজীবী অভীক চিমনির মাধ্যমে দাখিল করা আর্জিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার আওতায় জারি করা দিল্লি পুলিশের এই নোটিস আগাগোড়া বিভ্রান্তিকর, তথ্যগতভাবে অসত্য এবং সংবিধানের ১৯ ও ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে সুরক্ষিত মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। এলাকায় শান্তিভঙ্গের কী আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তার সপক্ষে ন্যূনতম কোনও তথ্যপ্রমাণ পুলিশ হাজির করতে পারেনি। অথচ গত ১৬ অক্টোবর মাণ্ডি হাউস থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়ে রাতভর থানায় আটকে রাখা হয় এবং সকালে ছাড়ার পরেই স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের তরফে দশ হাজার টাকার বন্ড জমা দেওয়ার হুকুম ধরানো হয়। রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনে পুলিশের এই অতিসক্রিয়তার আইনি ভিত্তি নিয়েই এখন হাইকোর্টের কাঠগড়ায় জবাবদিহির মুখে পড়তে হচ্ছে দিল্লি প্রশাসনকে।














