কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আগে ব্যস্ততা তুঙ্গে রায়গঞ্জের সুভাষগঞ্জের পালপাড়ায়। সকাল থেকে রাত, সারি সারি মাটির সরায় তুলির টানে ফুটে উঠছে লক্ষ্মী, প্যাঁচা, পদ্মফুল আর ধানের ছড়া। প্রায় ৫০-৬০টি পাল পরিবার আজও বংশপরম্পরায় এই শিল্পকে আঁকড়ে রয়েছে।এই পাড়ার বিশেষত্ব, শিল্পের হাতেখড়ি হয় বাড়ির অন্দরেই।
কোথাও বাবা ছেলেকে শেখাচ্ছেন লক্ষ্মীর চোখ আঁকা, কোথাও আবার শাশুড়ির কাছে কাজ শিখছেন বৌমা। আরতি পাল বলেন, হাতের কাজ শিখলে বৌমারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে। নিজের হাতখরচ নিজেই জোগাতে পারবে। সেই ভাবনা থেকেই তাদের শেখাই।শাশুড়ির কাছেই কাজ শিখেছেন প্রতিমা পাল। তাঁর কথায়,প্রথমে ভয় লাগত, রং নষ্ট হয়ে যাবে বলে। শাশুড়ি হাত ধরে শিখিয়েছেন। এখন নিজেই কাজ করতে পারি, রোজগারও হচ্ছে।প্রবীণ শিল্পী সুকুমার পাল প্রায় ৪০ বছর ধরে এই পেশায় যুক্ত। বয়সের ভারে চোখের দৃষ্টি কমেছে, হাতও কাঁপে। তবু শিল্পের টান ছাড়তে পারেননি। তাঁর ছেলে সুব্রত পাল এখন সেই কাজের হাল ধরেছেন। বাবার কাজ ছোট থেকে দেখে বড় হয়েছি। অন্য কাজ করলেও এই শিল্প ছাড়তে পারব না। এটাই আমাদের পরিচয়, বলেন তিনি।
তবে ঐতিহ্য ধরে রাখার লড়াই সহজ নয়। শিল্পীদের অভিযোগ, থার্মোকল ও ফাইবারের সরার সঙ্গে পাল্লা দিতে হচ্ছে তাঁদের। বেড়েছে কাঁচামালের দাম, অথচ মাটির সরার দাম তেমন বাড়েনি। একটি সরা বিকোয় ১৫ থেকে ৫০ টাকায়। তার উপর ফড়েদের দাপটে লাভও কম।তবু তুলির টানে লক্ষ্মী আঁকছেন তাঁরা। মাটির সরায় শুধু দেবীর ছবি নয়, ফুটে উঠছে আত্মনির্ভরতা এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখার গল্প।















