তেরো বছর বয়সে স্থানীয় এক ম্যাচে ৩১৯ বলে অপরাজিত ৫৫৬ রান করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। এবার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের মূল মঞ্চেও সেই ম্যারাথন ব্যাটিংয়ের স্বাক্ষর রাখলেন ভদোদরার তরুণ তুর্কি প্রিয়াংশু মোলিয়া। মঙ্গলবার রঞ্জি ট্রফিতে জম্মু ও কাশ্মীরের বিরুদ্ধে ৪৯২ বলে অপরাজিত ৩২১ রানের ঐতিহাসিক এক ইনিংস উপহার দিলেন তিনি। মাত্র ২১ বছর ১৩২ দিন বয়সে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ত্রিশতরান হাঁকিয়ে ভারতের সপ্তম কনিষ্ঠতম ব্যাটার হিসেবে রেকর্ড বইয়ে জায়গা করে নিলেন এই ডানহাতি।
একই সঙ্গে বরোদার হয়ে ১৯৪৭ সালের ফাইনালে হোলকারের বিরুদ্ধে গুল মহম্মদের করা ৩১৯ রানের রেকর্ড ভেঙে বরোদার ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোরের মালিকও এখন তিনিই। এক সময় ৬৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল বরোদা। সেখান থেকে মহেশ পিথিয়ার (১০২) সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ২৩২ রানের বিশাল পার্টনারশিপ গড়ে দলকে ৬১৬ রানের পাহাড়প্রমাণ স্কোরে পৌঁছে দেন প্রিয়াংশু। ৩৬টি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো নিজের ইনিংস নিয়ে বিসিসিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, “প্রথম দিনের শেষে আমি ১১৩ রানে অপরাজিত ছিলাম। দ্বিতীয় দিনে হেড কোচ বলেছিলেন যত বেশি সম্ভব উইকেটে টিকে থাকতে। আমার মানসিকতাও ছিল সেটাই।
দলের দায়িত্ব ছিল অনেক বড়।” বাবার শেখানো মূল মন্ত্র মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “সবাই তো সেঞ্চুরি করে; কিন্তু বড় কিছু করতে হলে আরও বড় রান করতে হবে, তবেই মানুষ তোমায় চিনবে। লাল বলের খেলা মানেই লম্বা ইনিংস আর ধারাবাহিকতা।” এই রূপকথার পেছনে রয়েছে তাঁর বাবার এক চরম ঝুঁকি নেওয়ার গল্প। রাজকোটের ছোটখাটো কনস্ট্রাকশন ব্যবসায়ী সুরেশ মোলিয়া ক্রিকেট অন্তপ্রাণ ছিলেন। ছেলের বয়স যখন আট, কার্সন ঘাউরি ও যজুর্বিন্দ্র সিংয়ের মতো প্রাক্তনদের পরামর্শ নেওয়ার পর ১১ বছর বয়সে ছেলেকে নিয়ে তিনি পাততাড়ি গুটিয়ে চলে আসেন ভদোদরায়। ভর্তি করে দেন মহিন্দর অমরনাথের ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে। প্রিয়াংশুর কথায়, “আজ পেছনে তাকালে মনে হয় বাবা সেদিন পুরো জুয়া খেলেছিলেন। একদম নতুন করে সব শুরু করতে হয়েছিল।”
বরোদার তামিলনাড়ু-জাত কোচ আর প্রসন্নর মতে, পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করাই প্রিয়াংশুর সবচেয়ে বড় গুণ। কোচের ভাষায়, “চাপ সামলে কীভাবে খেলতে হয় ও খুব ভালো জানে। ওর মধ্যে সাবেক ঘরানার ব্যাটিংয়ের ছাপ স্পষ্ট। মিড-অন বা মিড-অফ ওপরে থাকলেও ও হাওয়ায় না মেরে চোখধাঁধানো ড্রাইভে ফিল্ডার পরাস্ত করে। ও অনেকখানি সাই সুদর্শনের মতো—মাঠে ও মাঠের বাইরে সবসময় শিখতে আগ্রহী।” ২০২২ সালে ১৭ বছর বয়সে রঞ্জি অভিষেকের পর ভারতের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলা এই ব্যাটারের কাছে দিনভর ফোন এসেছে। তবে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল ১৮ বছর বয়সে ট্রিপল সেঞ্চুরি করা ভারতের সাবেক ওপেনার ওয়াসিম জাফরের পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তাটি।














