কালীপুজোর আগে কলকাতায় বেআইনি বাজি মজুতের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ল। বড়বাজারের এনএস রোডে একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে প্রায় ১১০ কেজি নিষিদ্ধ বাজি উদ্ধারের ঘটনায় ১৯ বছরের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চোরবাগানের পুজো মণ্ডপে দুর্ঘটনার পর শহরে উৎসবের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতার মধ্যেই এই উদ্ধারকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার গভীর রাতে বড়বাজার থানার একটি দল এনএস রোডে তল্লাশি চালাচ্ছিল। রাত পৌনে দুটো নাগাদ ১ নম্বর এনএস রোডের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসে। সেখানে ঢুকে চারটি বড় বাক্সে বিপুল পরিমাণ বাজি দেখতে পান পুলিশকর্মীরা। পরে ওজন করে জানা যায়, বাজির পরিমাণ প্রায় ১১০ কেজি।
ঘটনাস্থল থেকে মহম্মদ তৌফিক নামে এক যুবককে আটক করা হয়। তাঁর বয়স ১৯ বছর। পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতি বা লাইসেন্স ছাড়াই বসতিপূর্ণ এলাকার মধ্যে ওই বিপুল পরিমাণ বাজি রাখা হয়েছিল। ফলে শুধু আইনভঙ্গ নয়, অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণের মতো বিপদের আশঙ্কাও ছিল।
তৌফিকের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করেছে বড়বাজার থানা। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারার পাশাপাশি বিস্ফোরক আইনের বিধানেও মামলা হয়েছে। বাজিগুলি বাজেয়াপ্ত করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত নগরপাল (গোয়েন্দা) কুণাল আগরওয়াল বলেন, “অবৈধ বাজি রুখতে আমরা সব সময় চেষ্টা করছি।”
তবে তদন্তকারীদের নজর এখন শুধু গ্রেফতার হওয়া যুবকের দিকে আটকে নেই। এত পরিমাণ বাজি কোথা থেকে এল, কার নির্দেশে তা ওই বাড়িতে রাখা হয়েছিল এবং এর পিছনে কোনও বড় সরবরাহকারী বা চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উৎসবের বাজারে নিষিদ্ধ বাজির চাহিদাকে কেন্দ্র করে বেআইনি মজুতের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।
চোরবাগানের ঘটনার পর কলকাতায় পুজো এবং উৎসবের ভিড়ে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের উপর চাপ বেড়েছে। সেই পরিস্থিতিতে বড়বাজারের মতো ঘনবসতিপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় বিপুল পরিমাণ বাজি উদ্ধারের ঘটনা পুলিশের সামনে নতুন করে নজরদারির প্রশ্নও তুলে দিল।














