বয়স মাত্র আঠারো। কিন্তু ম্যাটে তাঁর ক্ষিপ্রতা আর লড়াইয়ের মেজাজ টেক্কা দিচ্ছে বিশ্বের তাবড় কুস্তিগিরদের। বিশ্ব কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পৌঁছে ভারতের প্রথম মহিলা হিসেবে সিনিয়র বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি ছিল তাঁর সামনে। অল্পের জন্য অধরা রয়ে গেল সোনা। ইউক্রেনের তিনবারের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন আনাস্তাসিয়া আলপিয়েভার বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ৬-৮ ব্যবধানে হেরে মহিলাদের ৭৬ কেজি বিভাগে রূপো জিতেই সন্তুষ্ট থাকতে হলো ভারতের প্রতিভাবান কুস্তিগির কাজল ধোচককে। তবে এই হারকে ব্যর্থতা হিসেবে দেখতে নারাজ দু’বারের অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন তরুণী। বিশ্বমঞ্চে রূপো জিতেই জানিয়ে দিলেন, তাঁর আসল লক্ষ্য অলিম্পিকের মঞ্চে সোনা এনে দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো। কুস্তির সঙ্গে কাজলের পরিচয় শৈশবেই।
কাকা এবং ভাইয়ের কুস্তির লড়াই দেখতে দেখতে মাত্র সাত-আট বছর বয়স থেকেই আখড়ায় নামা শুরু হয়েছিল তাঁর। অলিম্পিক পদকজয়ী সুশীল কুমার ও যোগেশ্বর দত্তের সাফল্য দেখেই বড় হওয়া কাজল বয়সভিত্তিক স্তর পেরিয়ে সবসময় স্বপ্ন দেখতেন সিনিয়র পর্যায়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করার। ছোটবেলা থেকেই কঠোর নিয়মানুবর্তিতা আর ত্যাগের মধ্যে দিয়ে তৈরি হয়েছেন তিনি। বাইরে ঘোরাঘুরি, বিনোদন কিংবা বাইরের খাবার ত্যাগ করে সম্পূর্ণ ঘরোয়া পুষ্টিকর ডায়েট এবং অবিরাম অনুশীলনেই কেটেছে তাঁর দিনরাত। তাঁর প্রশিক্ষক বীরেন্দর দাহিয়ার কথায়, দীর্ঘ আট-দশ বছরের কঠোর আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মানসিক একাগ্রতাই আজকের কাজলের ভিত তৈরি করেছে। চলতি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালেও অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের নমুনা রেখেছিলেন কাজল।
কিরগিজস্তানের আইপেরি মেদেত কিজির বিরুদ্ধে ১-৭ পয়েন্টে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত দুরন্ত কামব্যাক ঘটিয়ে ১০-৭ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে ফাইনালে ওঠেন তিনি। ফাইনালে শেষ কুড়ি সেকেন্ড পর্যন্ত ৪-৪ সমতায় লড়াই করছিলেন কাজল। নিয়মের সুবিধায় এগিয়ে থাকলেও শেষ মুহূর্তে বিপক্ষের দ্রুত আক্রমণের মুখে পড়ে পয়েন্ট খুইয়ে ৬-৮ ফলে রূপো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাঁকে। তবে এই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনের জন্য নিজেকে আক্রমণাত্মক কৌশলে প্রস্তুত করছেন এই তরুণী। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের এই লড়াইকে অলিম্পিক প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে দেখে আগামীতে অলিম্পিক সোনা জয়ই এখন কাজলের একমাত্র ধ্যানজ্ঞান।















