কালীপুজো মানেই মা কালীর আরাধনায় লাল জবার অপরিসীম গুরুত্ব। পুজোর উপাচার থেকে শুরু করে দেবীর চরণে অর্পণ;লাল জবা ছাড়া যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায় কালীপুজোর আয়োজন। আর এই পুজোকে কেন্দ্র করেই বাজারে বাড়তে শুরু করেছে লাল জবা ফুলের চাহিদা। চাহিদার এই ঊর্ধ্বগতিতে নতুন করে আশার আলো দেখছেন নদিয়ার ধানতলার জবা ফুলচাষিরা। তবে চাহিদা ও জোগানে ভারসাম্য থাকে কি না সেই দিকেই তাকিয়ে চাষিরা।
প্রতিবারই কালীপুজোর আগে জবা ফুলের দাম বাড়ে। এবারও তেমনই সম্ভাবনা রয়েছে। চাষিদের সঙ্গে আলোচনায় জানা গিয়েছে, এবার ১০৮টি জবা ফুলের মালার দাম হতে পারে ১৫০-২০০ টাকার মধ্যে। আবার এক হাজার জবা ফুলের দাম পৌঁছতে পারে ১০০০-১২০০ টাকা পর্যন্ত। এর ফলে ক্রেতাদের পকেটে পড়তে পারে টান। যদিও চূড়ান্ত দাম নির্ভর করবে কালীপুজোর সময় ফুলের চাহিদা ও জোগানের উপর। রাজ্যের অন্যতম ফুল উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে পরিচিত নদিয়ার ধানতলা। এখানকার উৎপাদিত ফুলের চাহিদা শুধু পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেই সীমাবদ্ধ নয়, দেশের নানা প্রান্ত এমনকি বিদেশের বাজারেও রয়েছে। গোলাপ, গাঁদা-সহ বিভিন্ন ধরনের ফুল চাষের পাশাপাশি এই এলাকার বহু কৃষক জবা ফুল চাষের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন।
চাষিদের কথায়, সারা বছরই জবা ফুলের কমবেশি চাহিদা থাকে। তবে কালীপুজোর আগে সেই চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে লাল জবার প্রয়োজনীয়তা থাকায় এই সময় বাজারে ফুলের বিক্রি এবং দাম দুটোই বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। সারা বছর অপেক্ষাকৃত কম দামে ফুল বিক্রি করতে হলেও কালীপুজোর মরশুমে বাড়তি আয়ের আশায় থাকেন জবা চাষিরা। ধানতলা থানার হালালপুর এলাকায় প্রায় ২০ থেকে ৩০টি পরিবার জবা ফুল চাষের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। তাঁদের জীবিকার অন্যতম ভরসা এই ফুল চাষ। কিন্তু চাষিদের অভিযোগ, সারা বছর জবা ফুলের উপযুক্ত দাম না মেলায় ক্রমশ এই চাষের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকে। উৎপাদনের খরচ এবং পরিশ্রমের তুলনায় বাজারে সবসময় ন্যায্য দাম পাওয়া যায় না।
ফলে কেউ কেউ জবা চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কথাও ভাবছেন। তবে কালীপুজোর মরশুম তাঁদের সেই হতাশার মধ্যেও নতুন করে আশার সঞ্চার করছে। এই সময় লাল জবার চাহিদা বাড়ায় তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। গত বছরের তুলনায় এবছর আরও ভালো দাম মিলবে বলেই প্রত্যাশা করছেন হালালপুরের জবা ফুলচাষিরা। সব মিলিয়ে কালীপুজোর আগে বাজারে লাল জবার বাড়তি চাহিদা একদিকে যেমন পুজোর প্রস্তুতিকে আরও জমজমাট করে তুলেছে, অন্যদিকে তেমনই ধানতলার জবা ফুলচাষিদের কাছে নিয়ে এসেছে বাড়তি উপার্জনের সম্ভাবনা। সারা বছরের সীমিত আয়ের চাপ কাটিয়ে উৎসবের মরশুমে কিছুটা আর্থিক স্বস্তি মিলবে, এখন সেই আশাতেই দিন গুনছেন এলাকার ফুলচাষি পরিবারগুলি।














