গঙ্গার দুই পারের চেহারা বদলে দিতে বড়সড় পরিকল্পনার কথা জানালেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। মুম্বইয়ের মেরিন ড্রাইভের ধাঁচে গঙ্গার দু’পাশে আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। শুধু ঘাট সংস্কার বা সৌন্দর্যায়ন নয়, পরিকল্পনায় রয়েছে চার লেনের হাইওয়ে, সাইকেল ট্র্যাক, হাঁটার জন্য পৃথক রাস্তা এবং মাটির তলা দিয়ে মেট্রো চালানোর ভাবনাও। ডায়মন্ড হারবার থেকে এসপ্লানেড পর্যন্ত গঙ্গার তলা দিয়ে মেট্রো চালানো সম্ভব কি না, তা নিয়েও পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী।
সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে এই বৃহৎ প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি। অগ্নিমিত্রার এই পরিকল্পনার মূল অনুপ্রেরণা মুম্বইয়ের মেরিন ড্রাইভ। আরব সাগরের তীর ঘেঁষে যেভাবে আধুনিক শহর, হোটেল, অফিস এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, কলকাতার গঙ্গার দুই পারেও তেমন পরিকাঠামো তৈরি করতে চান তিনি। মন্ত্রীর মতে, গঙ্গার দুই পারকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত উন্নয়ন করা গেলে শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নতুন গতি আসতে পারে। পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে অগ্নিমিত্রা জানান, গঙ্গার ধারে চার লেনের হাইওয়ে তৈরির ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি থাকবে সাইকেল চালানোর জন্য পৃথক ট্র্যাক।
সেই ট্র্যাক তৈরির বিষয়ে নেদারল্যান্ডসের একটি সংস্থার সঙ্গে কথাবার্তা চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। গঙ্গার পাড়ে হাঁটার জন্যও আলাদা রাস্তা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত, শরীরচর্চা এবং অবসর কাটানোর জন্য নতুন পরিসর তৈরি হতে পারে। সবচেয়ে বড় পরিকল্পনা ডায়মন্ড হারবার থেকে এসপ্লানেড পর্যন্ত মেট্রো যোগাযোগ গড়ে তোলা। অগ্নিমিত্রার ভাবনা, গঙ্গার তলা দিয়ে মেট্রো চালানো সম্ভব হলে দক্ষিণ শহরতলি ও কলকাতার কেন্দ্রীয় অংশের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। যদিও এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন, প্রযুক্তিগত দিক এবং অর্থের সংস্থান নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। বিষয়টি আপাতত পরিকল্পনার স্তরেই রয়েছে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, গঙ্গার বিভিন্ন ঘাটের উন্নয়নের কাজ ইতিমধ্যেই করা হচ্ছে। তবে তাঁর লক্ষ্য শুধু বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি ঘাট সাজানো নয়, বরং গঙ্গার দুই পারকে একসঙ্গে ধরে সামগ্রিক উন্নয়ন করা।
সেই কারণে একাধিক দফতর ও অংশীদারকে নিয়ে কাজের পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে। প্রকল্পের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর দফতরেও জানানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। অগ্নিমিত্রার কথায়, এটি অত্যন্ত বড় বাজেটের পরিকল্পনা। একাধিক দফতর এবং অংশীদারের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। তাই বাস্তবায়নের আগে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা ও সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হলে গঙ্গার দুই পারের যোগাযোগ ব্যবস্থা, পর্যটন এবং নগর পরিকাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে পরিকল্পনা কবে বাস্তবের পথে এগোবে, সে দিকেই এখন নজর।














