২০০৬ সাল থেকে ২০২৬। পাক্কা কুড়ি বছর পরে বাংলায় তৈরি হতে চলেছে নতুন একলাখি গাড়ির কারখানা। ২০০৬ সালে হুগলির সিঙ্গুরে টাটা মোটরসের এক লক্ষ টাকার ন্যানো গাড়ির কারখানা তৈরি শুরু হলেও গাড়ি আর তৈরি হয়নি। তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকেই পোলবার সুগন্ধাতে তৈরি হবে এক লক্ষ টাকার ইলেকট্রিক গাড়ি তৈরি। ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যাটারি তৈরির সংস্থার টিফোজের অন্যতম কর্ণধার শান্তনু ঘোষকে পাশে নিয়ে এমন ঘোষণাই করলেন তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ। ১২ একর জমিতে সাইনোসোর সংস্থার টিফোজ বিএলডিসি পাখা তৈরি হচ্ছে দু’বছর আগে থেকেই।
এদিন উদ্বোধন হয়ে গেল ব্যাটারিচালিত টোটোর। সেখানেই এদিন গিয়েছিলেন কুণাল। সেখানেই বারবার উঠে আসে সিঙ্গুর বিতর্ক। এমন কি তৃণমূলের আন্দোলনের জেরে বাংলা থেকে টাটা সংস্থা চলে গিয়েছিল কিনা সেই প্রশ্নও ওঠে। কিন্তু ২০০৬ সালে বাংলায় টাটা ন্যানোর সিঙ্গুরের কারখানা ঘিরে যে জমি আন্দোলন গোটা পৃথিবী জুড়ে পরিচিতি পেয়েছিল এবং ২০১১ সালে বাংলায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে মমতাকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হতে সাহায্য করেছিল সেই আন্দোলন একান্তই রাজনৈতিক এবং কৃষকদের স্বার্থে ছিল বলে বারে বারে দাবি করেন তিনি। কুণালের সাফ কথা, ওটা জমি বিতর্ক ছিল শিল্প বিতর্ক ছিল না। তিনি বলেন, এই হুগলিতে একসময় একটা গাড়ি তৈরির কথা ওঠে। কারখানা হয়নি।
তা নিয়ে নানারকম কথা ওঠে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা যে দল এখন ক্ষমতায় রয়েছে তাঁরা কেউ শিল্পের বিরুদ্ধে ছিল না। প্রশ্নটা ছিল জমি নিয়ে। তিন ফসলি কৃষি জমি সরকার জোর করে নিতে পারে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। তখন একশোবার বলা হয়েছিল ন্যানো কারখানা হোক কিন্ত জোর করে কৃষি জমি নিয়ে নয়। ওটা জমি বিতর্ক ছিল শিল্প বিতর্ক ছিল না। এরপরই টিফোজের অন্যতম কর্ণধার শান্তনু ঘোষের প্রসঙ্গে বলেন, শান্তনু যখন আমাকে নিমন্ত্রণ করতে যান তখন কথায় কথায় এই আলোচনাটা আসে। আপনাদের হুগলির মাটিতে এত বড় ১২ একরের জায়গা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে। পেট্রোল-ডিজেল লাগছে না। ২০০৫ সালে যে ন্যানোর কথা বলা হয়েছিল সেটা তো জ্বালানি তেলে চলতো।
আপনারা টিফোজ ফ্যান এনেছেন, তিন চাকা এনেছেন। আমি শান্তনুকে অনুরোধ করে হুগলির এই সুগন্ধা থেকে আপনার দক্ষ শ্রমিকদের নিয়ে এক লক্ষ টাকার টাকার চারচাকা চাই। শান্তনু যদিও বলছেন তাঁরা এই চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন। মঞ্চে উঠে বলেন, আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই চারচাকা গাড়ি নিয়ে আসব। কুণালের দাবি ন্যানোর থেকেও আধুনিক হবে এই গাড়ি। সুগন্ধার কারখানেতেই সব কিছু মেটেরিয়াল তৈরি হচ্ছে। দীপাবলির পরেই লুক রিলিজ হয়ে যাবে। তিনি বলছেন, সেদিনের আলোচনার পর উনি হোমওয়ার্ক শুরু করে দিয়েছেন। মধ্যবিত্তের জন্য এই গাড়ি খুবই কাজের হবে।












