বুধবার সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ ও পুদুচেরির ইয়ানম উপকূল অতিক্রম করল অত্যন্ত তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। স্থলভাগে আছড়ে পড়ার পর শক্তি হারিয়ে এটি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলেও এর প্রভাবে প্রতিবেশী ওড়িশায় জারি হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ভোর ২টো থেকে সকাল ৮টার মধ্যে ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়, যেখানে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার এবং সর্বোচ্চ ঝাপটা পৌঁছায় ১৫০ কিলোমিটারে। সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ গতি কমে ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটারে নেমে আসে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় এটি ক্রমশ উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে প্রথমে সাধারণ ঘূর্ণিঝড় এবং পরবর্তীকালে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে বলে জানানো হয়েছে।
স্থলভাগে প্রবেশের মুখে ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে একাধিক এলাকায় গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এর বহির্বলয়ের ভারী মেঘের জেরে ইতিমধ্যেই ওড়িশার কোরাপুট, রায়গড়া, গজপতি ও গঞ্জাম জেলায় একটানা বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দক্ষিণ ওড়িশার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করেছেন রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা মন্ত্রী সুরেশ পূজারী। মালকানগিরি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি জানান, নিচু এলাকা ও ধসপ্রবণ অঞ্চলগুলি থেকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ওড়িশার ৩০টি জেলার মধ্যে ১৬টিতেই বুধবার সমস্ত স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২,০৩৭টি সাইক্লোন শেল্টার, যেখানে ত্রাণ ও পানীয় জলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা মজুত রয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর মালকানগিরি, কোরাপুট, নবরংপুর, রায়গড়া, গজপতি এবং কালাহান্ডি জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির ‘লাল সতর্কতা’ জারি করেছে। বরগড়, সুবর্ণপুর, বোঁদ, নওয়াপাড়া, বলাঙ্গির, পুরী ও খুরদায় ৪০ থেকে ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এছাড়া ২৯ অক্টোবরের জন্য সুন্দরগড়, ঝাড়সুগুড়া ও বরগড়ে জারি হয়েছে কমলা সতর্কতা।
ভুবনেশ্বর আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্রের অধিকর্তা মনোরমা মোহান্তি জানিয়েছেন, ঝড়টি মূল ভূখণ্ডে ঢুকলে বাতাসের বেগ ঘণ্টায় ৬০-৭০ কিমি এবং ঝাপটা ৮০ কিমি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে স্থানীয় ধসের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। উদ্ধারকাজে গতি আনতে ৬০টি ওড্রাফ, ৯টি এনডিআরএফ এবং ২৪৪টি দমকল ও জরুরি পরিষেবা বাহিনীসহ মোট ৩১৩টি বিশেষ দল মোতায়েন করা হয়েছে। সমুদ্রে যাওয়া ১৯,১৪৩টি মাছ ধরার নৌকাই নিরাপদে উপকূলে ফিরে এসেছে। এখনও পর্যন্ত ওড়িশায় প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর না থাকলেও প্রশাসনের মূল লক্ষ্য একটি প্রাণও যাতে না হারায় তা নিশ্চিত করা।














