সরকার বদলের পরে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক পরিসরে এ বার স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চেও বদলের ছাপ। শনিবার, ১৫ আগস্ট, রাজ্যবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য ইতিমধ্যেই রেকর্ড হয়ে গিয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর। দূরদর্শনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ সম্প্রচারের পরেই মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য দেখানো হবে। এই ভাষণকে ঘিরে রাজনৈতিক আগ্রহের কারণও রয়েছে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পরে নতুন সরকার গঠনের পর এটাই শুভেন্দুর প্রথম স্বাধীনতা দিবসের বার্তা। ফলে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি সরকারের আগামী দিনের কর্মসূচির দিকনির্দেশও তিনি দেবেন কি না, সেটাই এখন দেখার। কর্মসংস্থান, শিল্প, পরিকাঠামো, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা—নতুন সরকারের সামনে থাকা একাধিক ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান কী, সে দিকে নজর থাকবে।
বিশেষ করে নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলির মধ্যে কোনগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তার কোনও ইঙ্গিত ভাষণে থাকে কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল রয়েছে। বিজেপি সূত্রের খবর, দিন সাতেক আগে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে স্বাধীনতা দিবসে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার প্রস্তাব যায়। দলের যুক্তি ছিল, সরকার পরিবর্তনের পরে মানুষের প্রত্যাশাও বেড়েছে। তাই নতুন প্রশাসনের পাঁচ বছরের পরিকল্পনা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সরাসরি জানানোর জন্য ১৫ আগস্টের মঞ্চটি উপযুক্ত। দলের এক নেতার কথায়, “এটি শুধু শুভেচ্ছাবার্তা নয়। নতুন সরকারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দর্শন তুলে ধরারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হতে পারে।
” এই উদ্যোগের মধ্যে রাজনৈতিক বার্তাও দেখছে বিজেপি। দলের বক্তব্য, স্বাধীনতা দিবসে মুখ্যমন্ত্রীর তরফে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বার্তা দেওয়ার প্রচলন দেশের বিভিন্ন রাজ্যে রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে গত ১৫ বছরে এমন নির্দিষ্ট মুখ্যমন্ত্রী-বার্তা দেওয়া হয়নি বলেও দাবি তাদের। সেই জায়গা থেকেই পুরনো একটি সরকারি রীতি ফেরানোর উদ্যোগ বলে ব্যাখ্যা করছে শাসক শিবির। বৃহস্পতিবারই শুভেন্দুর ভাষণ রেকর্ড হয়েছে বলে খবর। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পরে দূরদর্শনে তা সম্প্রচারিত হবে। সরকার বদলের পর প্রথম স্বাধীনতা দিবস। তাই মুখ্যমন্ত্রীর এই ভাষণকে ঘিরে শুধু আনুষ্ঠানিক প্রত্যাশা নয়, নতুন সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার এবং প্রশাসনিক কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা পাওয়ার অপেক্ষাও থাকছে।














