উমা বিদায়ের বিষন্নতাকে ভুলতে অভিনব ভাবনা নবোদয় সংঘের কালীপূজায়। দুর্গাপূজা বিসর্জনের পরপরই ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে সকলের মন। ব্যথীত হয় সকলের হৃদয়। উমার গমন আরো এক বছর অপেক্ষার শুরু করায়। আক্ষেপ থেকে যায় মায়ের চলে যাওয়ার। সেই আক্ষেপকে মেটাতে এইবার অভিনব ভাবনা নিয়ে কালী পূজায় মাতলো শহর বসিরহাটের ৮নং ওয়ার্ডের সাঁইপালার নবোদয় সংঘ। ৬৯তম বর্ষে তাদের এবার থিম ‘শঙ্খ বাজিয়ে মাকে ঘরে এনেছি’। পুজো প্যান্ডেলে প্রবেশ করলে প্রথমেই চোখে পড়বে চট, বস্তা, কাঠের গুঁড়ো ও রং দিয়ে তৈরি সুদৃশ্য মন্ডপ।
ভিতরে রয়েছে কুমোরটুলি থেকে আনা সুদৃশ্য কালি মায়ের প্রতিমা। মূলতঃ দুটি ভাবনা থেকে এ বছরের কালীপুজোর থিমকে বেছে নিয়েছে নবোদয় সঙ্ঘের উদ্যোক্তারা। প্রথমটি হল দুর্গা পুজোর পরবর্তী বিষন্নতাকে কাটাতে শ্যামা মায়ের মধ্য দিয়ে নতুন করে মায়ের আগমন ঘটানো। অন্যদিকে নারীর নিপীড়নকে প্রতিহত করতে কোনো যুদ্ধ নয়, কোনো কোনো আন্দোলন নয়, শঙ্খ বাজানোর মধ্য দিয়ে নারীত্বের সম্মান বাঁচানোর প্রয়াস এই থিমের মধ্য দিয়ে উঠে আসে। পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা সহলী বসু বলেন, ‘নারী নিপীড়নকে রুখতে আমরা এই থিমকে বেছে নিয়েছি। আমার শঙ্খ বাজানোর মধ্য দিয়ে নারীর সম্মানকে রক্ষা করবো। যার যেরে বাঁচবে সমাজ, দূর হবে সমাজের সমস্ত অন্ধকার’।
অপর এক উদ্যোক্তা শ্রাবন্তী মজুমদার বলেন, ‘দূর্গা পূজার বিসর্জনের পরপরই আমাদের মন ভেঙে যায়। আবার অপেক্ষা করতে হয় মায়ের। তাই শ্যামা মায়ের আগমনের মধ্য দিয়ে মাকে আবার নিজেদের কাছে ফিরে পেতে শঙ্খ বাজিয়ে মাকে ঘরে নিয়ে আসার প্রয়াস আমাদের। বছরের অন্যান্য সময়গুলিতে যারা ভিন জেলা, রাজ্য বা দেশে থাকে এই কালীপুজোর দিনে তারা পুনরায় তাদের বাড়ি ফিরে আসে এবং আমরা একসাথে আনন্দ করে এই পুজোকে উদযাপন করি’।















