ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে বিদায়বেলাটা একটু হলেও তেতো। তবে সেই বিষাদের সুর ছাপিয়েও ভিক্টর জোকেরেসের কণ্ঠে এখন কেবলই মুগ্ধতা আর গর্ব। আঠাশ বছর বয়সি এই সুইডিশ স্ট্রাইকারের কাছে আমেরিকার মাটিতে তাঁর প্রথম বিশ্বকাপ অভিযানটা ঠিক যেন রোলারকোস্টারের মতো। তিউনিশিয়ার বিরুদ্ধে ৫-১ গোলের দাপুটে জয়ে এক গোল আর জোড়া অ্যাসিস্ট দিয়ে স্বপ্নের মতো শুরু করেছিলেন।
কিন্তু গ্রাহাম পটারের সুইডেন শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে এসে ধাক্কা খেল টুর্নামেন্টের অন্যতম হেভিওয়েট ফ্রান্সের কাছে। কিলিয়ান এমবাপের আগুনে ফর্ম এবং ৩-০ গোলের হারের পর স্বাভাবিকভাবেই হতাশ ছিলেন আর্সেনালের এই তারকা। তবে সেই হতাশা দূরে সরিয়ে রেখে তিনি জোর দিয়েছেন ইতিবাচক দিকগুলোর ওপরেই। ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জোকেরেস অকপটে জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের চেয়ে বড় কোনও প্রতিযোগিতা তাঁর কাছে নেই। দলের হার সত্ত্বেও এই বিশ্বমঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে তিনি ভীষণ গর্বিত।
তবে জোকেরেসের এই গর্বের অন্যতম বড় কারণ সুইডেনের অদম্য সমর্থকরা। নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ফরাসি সমর্থকদের ভিড়ে তাঁরা সংখ্যায় অনেকটাই কম ছিলেন। এমনকি প্রথমার্ধের ঠিক আগে এমবাপে যখন ফ্রান্সের হয়ে গোলের খাতা খোলেন, তখনও গ্যালারিতে সুইডিশদের গলা ফাটানো উৎসাহ এতটুকুও কমেনি। সমর্থকদের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় আপ্লুত জোকেরেস তাই একরাশ কৃতজ্ঞতা নিয়ে বলেছেন যে, দর্শকদের সমর্থন ছাড়া তাঁদের এই যাত্রা একেবারেই অসম্ভব ছিল। টুর্নামেন্টে আরও বেশি দূর এগোতে না পারার আক্ষেপটাও তিনি লুকোননি। তবে নিজেদের হারের জন্য কোনও অজুহাত না দিয়ে প্রতিপক্ষ ফ্রান্সের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন তিনি।
তাঁর মতে, ফরাসি দলটার বোঝাপড়া এককথায় নিখুঁত। মাঠে নামলেই বোঝা যায় তারা একে অপরকে কতটা চেনে। আক্রমণভাগে তাদের গতি আর পারফেকশন যেকোনো বিপক্ষেরই ঘুম কাড়তে বাধ্য। এমবাপেরা যদি এই ছন্দ ধরে রাখতে পারে এবং রক্ষণভাগকে নিশ্ছিদ্র রাখতে পারে, তবে এই ফরাসি দলটা যে কাপ জেতার অন্যতম বড় দাবিদার, সে বিষয়ে রীতিমতো নিশ্চিত সুইডিশ তারকা। ফ্রান্সের রক্ষণের কথা বলতে গিয়ে আর্সেনালে তাঁরই সতীর্থ উইলিয়াম সালিবার কথাও আলাদা করে তুলে ধরেছেন জোকেরেস। সালিবার মতো একজন তুখোড় ডিফেন্ডারের বিরুদ্ধে খেলাটা তিনি বেশ উপভোগই করেছেন। কারণ, সেরাদের বিরুদ্ধে লড়াই করাটাই তাঁর সবচেয়ে প্রিয় কাজ।
তবে এই হারকে সঙ্গী করেই এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছে সুইডেন। দল হিসেবে তাঁরা অনেকটাই নতুন এবং বড় টুর্নামেন্টের অভিজ্ঞতা তাঁদের প্রায় নেই বললেই চলে। ফ্রান্সের মতো দিনের পর দিন একসঙ্গে খেলার সুযোগও তাঁদের হয়নি। কিন্তু জোকেরেস মনে করেন, এই সুইডেন দলে প্রতিভার কোনও অভাব নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁরাও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা দল হয়ে উঠবে বলে তাঁর স্থির বিশ্বাস। আর সেই তারুণ্যের আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করেই ২০৩০ সালে মরক্কো, পর্তুগাল আর স্পেনের মাটিতে বসা আগামী বিশ্বকাপের আসরে সেরাদের বিরুদ্ধে নতুন করে বুক চিতিয়ে লড়াই করার প্রহর এখন থেকেই গুনতে শুরু করেছেন জোকেরেস।















