মারণ রোগ মানেই আর অবধারিত মৃত্যু নয়, বরং মনের জোর আর সঠিক চিকিৎসায় ক্যানসারকেও হারানো সম্ভব। বিশ্ব ক্যানসার দিবস উপলক্ষে হাওড়ার আমতার উদং গ্রামে এই ইতিবাচক বার্তাই দিল ‘বুধবারের আড্ডা গোষ্ঠী’। চিকিৎসাবিজ্ঞানের আধুনিকীকরণে এখন ‘ক্যানসার হ্যাজ নো অ্যান্সার’ প্রবাদটি বদলে গিয়ে হয়েছে ‘ক্যানসার হ্যাজ অ্যান্সার’।
আধুনিক ওষুধ ও সচেতনতা এই লড়াইয়ের মূল হাতিয়ার বলে এদিন অনুষ্ঠানে উঠে আসে। বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ পিনাকী রঞ্জন কাঁড়ার সভায় ক্যানসার প্রতিরোধের নানা দিক তুলে ধরেন। তাঁর মতে, মানুষ সচেতন থাকলে এবং রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করা গেলে আরোগ্য লাভ অনেক সহজ হয়। তিনি জানান, বর্তমানে চিকিৎসার আধুনিকীকরণের ফলে জীবনদায়ী ওষুধের মাধ্যমে রোগীকে দীর্ঘ জীবন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এমনকি মহিলাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসারের প্রতিষেধকও কার্যকরী ভূমিকা নিচ্ছে। এদিনের বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন ক্যানসারজয়ী লেখক রাজীব শ্রবণ।
মারণ রোগের গ্রাসেও ভেঙে না পড়ে পঞ্চাশটিরও বেশি গ্রন্থ লিখে তিনি অদম্য মানসিক শক্তির পরিচয় দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে তাঁকে বিশেষ সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। রাজীববাবু নিজের লড়াই ও সৃজনশীলতার কাহিনী শুনিয়ে উপস্থিত শ্রোতাদের অনুপ্রাণিত করেন। আড্ডা গোষ্ঠীর প্রধান প্রদীপ রঞ্জন রীত জানান, ক্রমবর্ধমান ক্যানসার রুখতে জীবনযাত্রায় বদল আনা জরুরি। ধূমপান বর্জন, দূষণ এড়িয়ে চলা এবং নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস রোগ প্রতিরোধের অন্যতম পথ। অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. সৌমেন রায়, ইতিহাসবিদ প্রশান্ত দত্ত ও সাহিত্যিক তাপস বৈদ্য সহ বিশিষ্ট জনেরা উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যেকের কন্ঠেই প্রতিধ্বনিত হয় এক সুর, ক্যানসার মানেই শেষ নয়, লড়াইয়ের শুরু।















