দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে প্রচারের শেষ দিনে বসিরহাটে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছাল। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার সোমবার বসিরহাটে এসে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে অংশ নিয়ে একাধিক বিতর্কিত ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ডাঃ শৌর্য্য ব্যানার্জির সমর্থনে টাকি এলাকায় একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশ নেন তিনি।
শোভাযাত্রায় দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রচার শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নির্বাচন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন। তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে সুকান্ত মজুমদার অভিযোগ করেন, ভোটের সময় হামলা ও সন্ত্রাসের রাজনীতি নতুন কিছু নয়। তাঁর দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই ধরনের পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে তারা সক্ষম এবং কড়া হাতে দমন করা হবে।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে ভয়মুক্ত নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন প্রসঙ্গে তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে আগের তুলনায় হিংসার ঘটনা কিছুটা কমেছে বলে তাঁর ধারণা। প্রথম দফার ভোটে বড় ধরনের অশান্তির ঘটনা সামনে আসেনি বলেও দাবি করেন তিনি। তবে দ্বিতীয় দফায় হিংসার আশঙ্কা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেন এবং নির্বাচন কমিশন সেই পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত বলেও মন্তব্য করেন। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণার কিছু এলাকায় দুষ্কৃতীদের সক্রিয়তা বেড়েছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি বিশেষভাবে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের প্রসঙ্গ টানেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় মাঝেমধ্যেই বাইরের লোক ঢুকে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে আরও সতর্ক ও কঠোর হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত তাঁর।
সবচেয়ে বেশি বিতর্কের সৃষ্টি করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তাঁর মন্তব্য। তিনি বলেন, শুধুমাত্র মোতায়েন করলেই হবে না, বাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। তাঁর কথায়, ‘সেন্ট্রাল ফোর্স শুধু ঘুরে বেড়ালে হবে না, ক্যালানিও দিতে হবে।’ এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, বসিরহাটে প্রচারের শেষ দিনে সুকান্ত মজুমদারের এই সফর ও বক্তব্য নির্বাচনী লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলেছে। ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকতেই পারে।













