আদিবাসীদের উন্নয়নের নামে নির্মম অত্যাচার চলছে আদিবাসীদের উপর। উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে। এই হামলার প্রতিবাদে একজোট হতে চলেছে আদিবাসী সমাজ। ঝাড়খন্ড দিষম পার্টি ও আদিবাসী সিঙ্গেল অভিযানের নেতারা ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছেন,অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার না করা হলে রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।তাদের দাবি,শীঘ্রই এই ঘটনাকে এসসিএসটি অ্যাক্টের মাধ্যমে তদন্ত শুরু করতে হবে এই দাবি তুলছেন আদিবাসী সমাজ ।
রাজনীতির ময়দানে এই হামলা ঘিরে শুরু হয়েছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের ঝড় । বিজেপির অভিযোগ, হামলাকারীরা নিজেরাই স্বীকার করেছে যে তারা তৃণমূলের অনুগামী, তবুও পুলিশ এখনও কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি। হবিবপুরের বিজেপি বিধায়ক জুয়েল মুর্মু বলেন, তৃণমূলের গুন্ডাগিরি আর বরদাস্ত করা হবে না যদি দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার না করা হয়, তবে আদিবাসীরা সংঘবদ্ধ আন্দোলনে নামবে।
অন্যদিকে, মালদা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের আদিবাসী নেতা সনাতন টুটু জানান, এই হামলার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই। তার দাবি, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীরাই ক্ষোভে এই আক্রমণ চালায়। তিনি আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই আহত সাংসদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।
এই বিষয়ে পুরাতন মালদা ব্লকের শহীদপুরে একটি আদিবাসী সমাজের বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। আদিবাসী সিঙ্গেল অভিযান উত্তরবঙ্গের জোনাল সভাপতি মোহন হাসদা জানান,ঝাড়খন্ড দিষম পার্টি ও আদিবাসী সিঙ্গেল অভিযানের কর্মীদের নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন,আদিবাসী সিঙ্গেল অভিযান ও ঝাড়খন্ড দিশম পার্টি কর্মীরা যে ভাবে সাংসদ খগেন মুর্মুর হামলার প্রতিবাদ করেছেন তার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই। মোহন হাসদা জানান,রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মর্ম কেউ তৃণমূলের নেতা অখিল গিরি অপমান করতে ছাড়েনি। তিনি আরও বলেন, রাজ্যে আদিবাসীদের উপর চলা অত্যাচার আর সহ্য করা হবে না। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির আড়ালে রাজনৈতিক স্বার্থে আদিবাসীদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি ঘোষণা করেন, প্রয়োজনে রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।















