শিল্পে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি থেকে গণপরিবহণের সম্প্রসারণ এবং গিগ অর্থনীতির কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা— এক মঞ্চ থেকেই সরকারের একাধিক অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরলেন পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং। বুধবার মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্সের এক অনুষ্ঠানে শিল্পপতিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বাংলায় বিনিয়োগ করুন। কোনও প্রশাসনিক সমস্যা হলে সরকার পাশে থাকবে। কোথাও ফাইল অযথা আটকে থাকলে আমাদের জানান, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” শিল্পায়নকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করে মন্ত্রীর দাবি, “নতুন শিল্প গড়ে উঠলে রাজ্যের তরুণদের জন্য আরও কাজের সুযোগ তৈরি হবে। শিল্পবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।”
গণপরিবহণের বর্তমান পরিস্থিতির কথাও এদিন অকপটে তুলে ধরেন অর্জুন। তিনি বলেন, “সরকারি বাসের ঘাটতি রয়েছে। সেই কারণেই আরও ৪৭০টি বাস নামানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুর্গাপুজোর আগেই ই-বাস চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় চার্জিং পরিকাঠামো তৈরি হবে।” এসি বাসের চালক ও কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট পোশাক চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। কলকাতার ট্রাম পরিষেবাকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনার কথাও শোনান পরিবহণমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “ট্রামের পুরনো রুট বজায় থাকবে। তবে যানজট কমাতে ভবিষ্যতে রাস্তার বাঁ দিক দিয়ে ট্রাম চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। দক্ষিণেশ্বর থেকে কালীঘাট পর্যন্ত ট্রাম সংযোগ গড়ে তোলার পাশাপাশি রাজারহাট-নিউটাউনেও এই পরিষেবা চালুর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।”
অ্যাপভিত্তিক খাদ্য সরবরাহকারী সংস্থার কর্মীদের অধিকার নিয়েও সরব হন অর্জুন। তিনি বলেন, “সুইগি, জোম্যাটোর মতো সংস্থায় কর্মরতদের পিএফ ও ইএসআইয়ের সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।” একই মঞ্চে শিল্প, পরিবহণ এবং শ্রমিক কল্যাণ— এই তিন ক্ষেত্রকে একসঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেন পরিবহণমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি নাগরিক পরিষেবা ও কর্মজীবীদের সুরক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দিতে চাইছে রাজ্য সরকার।














