জাতীয় চিকিৎসক দিবসের অনুষ্ঠানে একদিকে যেমন বিধাননগর সাব-ডিভিশনাল হাসপাতালের নতুন নাম ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, অন্যদিকে তৃণমূল আমলের স্বাস্থ্য পরিষেবার তীব্র সমালোচনাও শোনা গেল তাঁর বক্তব্যে। বুধবার ময়ূখ ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি জানান, হাসপাতালটির নতুন নাম হবে ‘ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল’। তাঁর বক্তব্য, আধুনিক বাংলার স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলায় ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের অবদানকে স্মরণ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানের শুরুতে ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ আধিকারিক, চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা। বক্তব্যে ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের কর্মজীবনের প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই বিধানচন্দ্র রায় সম্পর্কে পড়াশোনা করেছি। আধুনিক পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও নগর উন্নয়নের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন তিনি।”
এরপরই তিনি রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার বর্তমান চিত্র তুলে ধরে আগের সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন। তাঁর দাবি, “সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যেখানেই নজর দিচ্ছি, সেখানেই অব্যবস্থা আর ধ্বংসের চিত্র সামনে আসছে।” হাসপাতালের পরিকাঠামো ও পরিষেবা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “হাসপাতালের এই বেহাল দশা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। চিকিৎসা ব্যবস্থায় আমরা-ওরা, পছন্দ-অপছন্দ বা সাম্প্রদায়িক বিভাজনের কোনও স্থান নেই। স্বাস্থ্য দফতরকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে হবে।” স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অতীত পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তাঁর মন্তব্য, “মেডিক্যাল কলেজ, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য ভবনের যে অবস্থা ছিল, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এমন ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে রোগীর পাশেই অন্য প্রাণী শুয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। এটা কোনও সভ্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ছবি হতে পারে না।” বাংলার চিকিৎসকদের দক্ষতারও প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তাঁর কথায়, “পৃথিবীর নানা দেশের নামী হাসপাতালে বাঙালি চিকিৎসকেরা সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছেন। অথচ একসময় এ রাজ্যের চিকিৎসকদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। এখন সেই পরিস্থিতি বদলেছে এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, হাসপাতালের নাম পরিবর্তনের ঘোষণার পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে আগের সরকারের সমালোচনা করে বর্তমান সরকার প্রশাসনিক সংস্কার এবং স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের বার্তাকেই আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চেয়েছে।














