দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় আরও গতি আনতে এবং রোগীদের স্বার্থে দ্রুত জীবনদায়ী চিকিৎসা সরঞ্জাম বা ‘মেডিক্যাল ডিভাইস’ বাজারে নিয়ে আসতে বড়সড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। চিকিৎসা সরঞ্জামের গুণমান, নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে বজায় রেখে উৎপাদকদের লাইসেন্স বা ছাড়পত্র দেওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও মসৃণ করার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক।
এই উদ্দেশ্যে ‘মেডিক্যাল ডিভাইসেস রুলস, ২০১৭’-তে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সরকারি গ্যাজেটে প্রকাশিত একটি খসড়া বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে যে, লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে এই শিল্পক্ষেত্রে ব্যবসার পরিবেশকে (ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস) আরও সহজ করে তোলাই এই সংশোধনীর অন্যতম মূল লক্ষ্য। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে প্রস্তাবিত এই খসড়া সংশোধনী অনুযায়ী, চিকিৎসা সরঞ্জামের লাইসেন্স অনুমোদনের আইনি সময়সীমা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হচ্ছে। বর্তমান নিয়মানুযায়ী, শারীরিক ঝুঁকির মাত্রার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা সরঞ্জামগুলিকে মোট চারটি শ্রেণিতে— এ, বি, সি এবং ডি-তে ভাগ করা হয়।
এর মধ্যে ‘ডি’ শ্রেণির সরঞ্জামগুলি রোগীদের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে গণ্য করা হয়। নয়া প্রস্তাবে বিভিন্ন শ্রেণির সরঞ্জাম উৎপাদনের ক্ষেত্রেই ছাড়পত্রের সময়সীমা কমানোর রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। রক্তচাপ মাপার যন্ত্র (ব্লাড প্রেশার মনিটর), হাইপোডার্মিক সূঁচ এবং পালস অক্সিমিটারের মতো বহু-ব্যবহৃত সরঞ্জামগুলি মূলত ‘বি’ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, যা নিম্ন থেকে মাঝারি ঝুঁকির সরঞ্জাম হিসেবে ধরা হয়। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে এই ধরনের চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনের লাইসেন্স পাওয়ার সময়সীমা ১৪০ দিন থেকে কমিয়ে ১১৫ দিন করার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, কার্ডিয়াক স্টেন্ট, হিপ ও নি ইমপ্ল্যান্ট এবং অন্যান্য অর্থোপেডিক ইমপ্ল্যান্টের মতো উচ্চ ঝুঁকির সরঞ্জামগুলি ‘সি’ ও ‘ডি’ শ্রেণির মধ্যে পড়ে।
এই ধরনের অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও জীবনদায়ী চিকিৎসা সরঞ্জামগুলি উৎপাদনের ক্ষেত্রে লাইসেন্স মেলার সময়সীমা ১০৫ দিন থেকে কমিয়ে ৯০ দিন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ওই খসড়া বিজ্ঞপ্তিতে। সময়সীমা কমানোর পাশাপাশি লাইসেন্স প্রদানের সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ এবং দক্ষ করে তুলতে প্রতিটি স্তরের জন্য সুস্পষ্ট রূপরেখাও তৈরি করা হয়েছে প্রস্তাবিত সংশোধনীতে। আবেদনপত্র খতিয়ে দেখা, নির্দিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে অডিট করানো, নিয়মকানুন বা কমপ্লায়েন্স যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না তা যাচাই করা এবং চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়া— এই প্রতিটি ধাপের জন্যই নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে প্রশাসনিক কাজে যেমন গতি আসবে, তেমনই চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিও অনাবশ্যক দেরির হাত থেকে রেহাই পাবে। গুণমানের সঙ্গে কোনো আপস না করেই দ্রুত অনুমোদনের এই প্রক্রিয়ার ফলে দিনের শেষে দেশের সাধারণ রোগীরাই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। ইতিমধ্যেই এই খসড়া বিজ্ঞপ্তিটি আমজনতা, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামত এবং পরামর্শ নেওয়ার জন্য জনসমক্ষে আনা হয়েছে। যাঁরা এই বিষয়ে নিজেদের মতামত বা পরামর্শ দিতে ইচ্ছুক, তাঁরা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ‘সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন’ বা সিডিএসসিও-র মাধ্যমে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবেন।













