সোমবার দুপুর থেকে সদর শহর বহরমপুরের পাশাপাশি লালবাগ, জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ, বেলডাঙায় ভাগীরথীর একাধিক ঘাটে ভক্তদের ডালা নিয়ে পুজো দিতে যেতে দেখা যায়। এছাড়া ভগবানগোলা, লালগোলা, কান্দিতে নদীঘাটের পাশাপাশি স্থানীয় বিল, পুকুর ও জলাশয়েও ছট পুজোর আয়োজন করা হয়। নবগ্রামের বসিয়া বিলে প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। বহরমপুরের কলেজ ঘাট, কান্দি বাসস্ট্যান্ড ঘাট, গোপাল ঘাট এবং ফরাসডাঙা ঘাটে ছট পুজোয় হাজার হাজার ভক্ত সমাগম হয়। জিয়াগঞ্জ থানার ভাগীরথীর সাতটি ঘাটে এবং মুর্শিদাবাদ থানার ১৩টি ঘাটে ছটপুজো হয়।
বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ঘাটে ঘাটে পুজো চলে। সুর্য এবং গঙ্গাদেবীকে পুজো দিয়ে সন্ধ্যায় ভক্তরা তাদের ডালা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান। ভক্তদের পাশাপাশি ছটপুজো দেখতে স্থানীয় বাসিন্দারা নদীর ঘাট, বিল এবং পুকুরের পাড়ে ভিড় জমান। ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড়ে দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত জমজমাট ছিল নদীঘাট এবং স্থানীয় জলাশয়ের পাড়। পুজো উপলক্ষ্যে ভাগীরথীর ঘাটগুলিতে মেলা বসে।
আজ, মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত পুজো চলবে। জিয়াগঞ্জের বাসিন্দা অশোক ঘোষ ছটের ডালা নিয়ে পুজো দিতে ভাগীরথীর বালির ঘাটে এসেছিলেন। তিনি বলেন, সোম এবং মঙ্গলবার দুইদিন ছট পুজো। প্রথম দিন ঘাট ধরতে হয়। তা না হলে দ্বিতীয় দিনে ঘাট পাওয়া যায় না। কোনপ্রকার দুর্ঘটনা বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘাট সংলগ্ন নদীর নিরাপদ দূরত্বে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। পুজো শেষে ভক্তদের ওই ব্যারিকেডে মধ্যে স্নানের জন্য পুলিস প্রশাসন ও পুরসভার পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, ছটপুজো উপলক্ষ্যে ভাগিরথীর ঘাটগুলিতে একাধিক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বেশ কয়েকটি ঘাটে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। ব্যবস্থা করা হয়েছে বাড়তি আলোর। পুলিসের পাশাপাশি সিভিল ডিফেন্স, বিপর্যয় মোকাবিলা টিমের সদস্যরা ঘাটগুলিতে নজরদারি চালায়। স্পিড বোট এবং লঞ্চে নদীপথে নজরদারি চালানো হয়। মঙ্গলবারেও পুজো চলাকালীন নজরদারি চালু থাকবে। জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ ঘোষ বলেন, ভাগিরথীর দুই পাড়ে মোট সাতটি ঘাটে ছট পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। ছটের আগেই পুরসভার পক্ষ থেকে ঘাটগুলিকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে তোলা হয়। পুরসভার পক্ষ থেকে বাড়তি আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।















