জঙ্গলমহলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের নয়, আত্মীয়তারও শুক্রবার ঝাড়গ্রামের লোধা সবর অধ্যুষিত কালাঝরিয়া গ্রামে দাঁড়িয়ে এমনই বার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। লোধা-শবর অধ্যুষিত এই প্রত্যন্ত গ্রামে এসে নিজেকে জঙ্গলমহলের কুটুম হিসেবে তুলে ধরলেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পেল প্রান্তিক জনজাতির অধিকার, খাদ্য ও পুষ্টির নিশ্চয়তা এবং ঝাড়গ্রাম জেলার সার্বিক উন্নয়ন। একই সঙ্গে অতীতের অশান্তির দিনগুলির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শান্তি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শুক্রবার মানিকপাড়া অঞ্চলের কালাঝরিয়া গ্রামে বিশেষ পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির রাজ্যস্তরীয় সূচনা হয় মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে। ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও আলিপুরদুয়ার চারটি জেলাকে কেন্দ্র করে এই কর্মসূচি শুরু করা হয়। অন্যান্য জেলায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন হয়। প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া পরিবারের কাছে পুষ্টিকর খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, উন্নয়নের সুফল সমাজের শেষ প্রান্তে থাকা মানুষের কাছেও পৌঁছে দিতে হবে। এদিনের সভায় ঝাড়গ্রামের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জেলার উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দফতরে কমপ্রিহেনসিভ ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানের আওতায় ১২১ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।পাশাপাশি রাজ্য সরকারের তরফে জেলার সার্বিক উন্নয়নের জন্য ৩৪২ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও জানান তিনি। উন্নয়নের এই অর্থ কীভাবে জেলার বিভিন্ন ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে, তা নিয়েই এখন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
শুধু অর্থ বরাদ্দ নয়, আদিবাসী সমাজের অধিকার রক্ষার বিষয়টিও ছিল তাঁর বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পূর্ববর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্রের মাধ্যমে প্রকৃত আদিবাসীদের বঞ্চিত করা, আবাস প্রকল্পের অর্থ নিয়ে অনিয়ম এবং আদিবাসী ও মাহাতো সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগ তোলেন তিনি। তবে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি ঝাড়গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি, প্রত্যন্ত এলাকার পরিকাঠামো এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিতেই বেশি জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। জঙ্গলমহলের অতীতের অশান্ত পরিস্থিতির প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর ভাষণে। বিড়িহান্ডি এলাকায় মাওবাদী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ২০১২ সালে নিজের মিছিলের কথা স্মরণ করেন তিনি। তাঁর দাবি, একসময় মাওবাদী প্রভাব ও ভোট বয়কটের কারণে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।















