বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞে যখন নিজের দেশের টিম মাঠে নামছে, তখন কোন রাষ্ট্রনেতা অন্য দেশের গ্যালারিতে বসে প্রেমিকার হাত ধরে চিল করতে পারেন? উত্তরটা যদি হয় জাস্টিন ট্রুডো, তবে বোধহয় অবাক হওয়ার কিছু নেই! কানাডার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবার এমনই এক কাণ্ড ঘটিয়ে নিজের দেশের নাগরিকদের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন।
কানাডার প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ ছেড়ে তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে হাজির ছিলেন আমেরিকার ম্যাচ দেখতে। আর এর নেপথ্যে অন্য কোনও কূটনৈতিক কারণ ছিল না, ছিল নিখাদ প্রেম। প্রেমিকা তথা পপ তারকা কেটি পেরির পাশে বসে ‘কেয়ারিং বয়ফ্রেন্ড’-এর ভূমিকা পালন করতেই ট্রুডোর এই মার্কিন সফর। তবে এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ট্রোল শুরু হতেই ট্রুডোও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন, দিয়েছেন জুতসই জবাব। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার (ভারতীয় সময় অনুযায়ী)।
২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল আমেরিকা ও প্যারাগুয়ে। সেই ম্যাচের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন পপ কুইন কেটি পেরি। আর ভিআইপি লাক্সারি বক্সে প্রেমিকার সেই পারফরম্যান্সের চাক্ষুষ সাক্ষী হতে হাজির ছিলেন ট্রুডো। শুধু তাই নয়, আমেরিকার ৪-১ গোলের দাপুটে জয়ের সময় কেটি পেরির সঙ্গে ট্রুডোকেও গ্যালারিতে উল্লাসে মেতে উঠতে দেখা যায়। ক্যামেরা তাঁদের এই রোমান্টিক মুহূর্ত ফ্রেমবন্দি করতেই তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে নেটপাড়ায়। কানাডিয়ানরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন কারণ, ঠিক একই দিনে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলছিল কানাডা (যে ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়)।
নিজের দেশের এমন ঐতিহাসিক ম্যাচ উপেক্ষা করে ট্রুডোর এই ‘আমেরিকান প্রীতি’কে ভালো চোখে নেননি অনেকেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা যখন চরমে, তখন নিজেই এক্স হ্যান্ডেলে মুখ খোলেন ট্রুডো। নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদন শেয়ার করে তিনি অত্যন্ত চতুর এবং মিষ্টি একটি ক্যাপশন জুড়ে দেন। ট্রুডো লেখেন, ‘মাঝে মাঝে একজন দায়িত্বশীল বয়ফ্রেন্ডের কর্তব্য পালন করতেই হয়। তবে কাপটা কে জিতবে, সে বিষয়ে আমি কার দিকে আছি তা তো আপনারা ভালো করেই জানেন!
‘ অর্থাৎ, ট্রোলের মুখে পড়েও পিছু হঠেননি তিনি, বরং বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রেমিকার পাশে থাকাটাও তাঁর কাছে সমান জরুরি, তবে মনে মনে তিনি কানাডাকেই সমর্থন করছেন। চলতি মাসের শুরুতেই প্যারিসে ট্রাইবেকা ফেস্টিভ্যালে নিজেদের সম্পর্কের কথা অফিশিয়ালি সামনে এনেছিলেন ট্রুডো ও কেটি পেরি। আর এবার বিশ্বকাপের মেগা মঞ্চে তাঁদের এই রসায়ন আরও একবার চর্চার কেন্দ্রে। আগামী ১৮ জুন কাতারের মুখোমুখি হবে কানাডা, আর ১৯ জুন আমেরিকার প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। এখন দেখার, পরের ম্যাচে ট্রুডো ‘কেয়ারিং বয়ফ্রেন্ড’ হয়ে আমেরিকার গ্যালারিতেই থাকেন, নাকি নিজের দেশের জার্সি গায়ে গলা ফাটান!












