স্বাধীনতা দিবসের পর নারী সংরক্ষণ ও সীমানানির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) বিল পাসের লক্ষ্যে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার জল্পনা খারিজ করে দিলেন সংসদীয় বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। আগামী ১৬ থেকে ১৮ আগস্টের মধ্যে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে সংসদের কোনো বিশেষ অধিবেশন আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি বলে বুধবার স্পষ্ট জানান তিনি। স্বাধীনতা দিবসের পরেই এই দুই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিল পাসের জন্য সরকার বিশেষ অধিবেশন ডাকতে পারে বলে যে গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই মন্তব্যে তাতে আপাতত পূর্ণচ্ছেদ পড়ল। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কিরেন রিজিজু জানান, “নারী সংরক্ষণ এবং সীমানানির্ধারণ বিল নিয়ে ১৬ থেকে ১৮ আগস্টের মধ্যে কোনো বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রস্তাব বিবেচনাধীন নেই”।
বর্তমানে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন চলাকালীনই ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল পুনরায় পেশ করার বিষয়ে বিরোধী দলগুলির সমর্থন আদায়ে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনা চালানো হচ্ছে। প্রস্তাবিত এই বিলে ২০২৯ সাল থেকে আইনসভায় নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের সংস্থান এবং লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮১৬ করার কথা বলা হয়েছে। প্রায় চার মাস আগে প্রথমবার সংসদে পেশ করা হলেও প্রয়োজনীয় সমর্থনের অভাবে বিলটি পাস করানো সম্ভব হয়নি। সেই কারণেই বিলটি পুনর্গঠন করে পাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিরোধীদের পাশে পাওয়ার চেষ্টার অঙ্গ হিসেবে কিরেন রিজিজু লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে। তবে সূত্রের খবর, এই বৈঠকে কংগ্রেস নেতার কাছ থেকে চূড়ান্ত কোনো প্রতিশ্রুতি পাননি সংসদীয় বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রী।
কংগ্রেসের পাশাপাশি সমাজবাদী পার্টি ও ডিএমকে-র মতো প্রধান বিরোধী দলগুলোর সঙ্গেও কথা বলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রের খবর, যদি সরকার সীমানানির্ধারণ বিল নতুন করে আনার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা কোনো বিশেষ অধিবেশন ডেকে নয়, বরং চলমান বর্ষাকালীন অধিবেশনের বাকি দিনগুলির মধ্যেই পেশ করা হবে। বর্ষাকালীন অধিবেশনে এখনও প্রায় এক সপ্তাহের কাজ বাকি থাকায় সেই সময়সীমার মধ্যেই যাবতীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিরা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।














