দীর্ঘ ১৫ বছর পরে পুরুলিয়ায় রেলের একটি বিশেষ প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করল প্রশাসন। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশনে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল মসৃণ করতে গৌরীনাথধাম থেকে পুরুলিয়া পর্যন্ত ৫.৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার লাইন তৈরির পরিকল্পনা হয়েছে। ইতিমধ্যেই জমি অধিগ্রহণের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে পুরুলিয়া জেলাশাসকের দফতর। প্রকল্পের জন্য মোট ৩৪.১২ হেক্টর জমি প্রয়োজন।২০২৫ সালে ৪২৮.৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের অনুমোদন হয়। ২০২৭ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হলেও জমি অধিগ্রহণে জটিলতার কারণে তা আটকে ছিল বলে দাবি রেল সূত্রের। পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর অভিযোগ, আগের রাজ্য সরকার ছাড়পত্র না দেওয়ায় প্রকল্প এগোয়নি। তাঁর কথায়, এখন ডবল ইঞ্জিনের সরকার।
মানুষের যা প্রয়োজন, তাই করা হবে।বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পুরুলিয়া-২ ব্লকের সুরুলিয়া, রাঘবপুর ও বোঙাবাড়ি মৌজায় জমি নেওয়া হবে। সুরুলিয়ায় ২৫৫টি প্লটে ২৬.১১৬ হেক্টর, রাঘবপুরে ৭৯টি প্লটে ৬.৮৭৪ হেক্টর এবং বোঙাবাড়িতে ৯৭টি প্লটে ৮.৭৩৫ হেক্টর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব রয়েছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে আপত্তি জানানো যাবে। তবে বিজ্ঞপ্তি পুজোর আগে জারি হলেও পরে ব্লক ভূমি দফতরে টাঙানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।রবিবার সুরুলিয়ার বাসিন্দারা এ নিয়ে বৈঠক করেন। তাঁদের একাংশের বক্তব্য, উন্নয়নের স্বার্থে জমি দিতে আপত্তি নেই।
তবে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ চাইছেন অনেকে। স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল পাঠক ও দিলীপ রাজোয়াড় জমি দিতে রাজি বলে জানিয়েছেন। ব্যবসায়ী অনিলকুমার পাঠকের কথায়, উপযুক্ত দাম পেলে জমি দিতে অসুবিধা নেই।রেল সূত্রে খবর, ফ্লাইওভারটি গৌরীনাথধাম থেকে বোঙাবাড়ির কাছে আদ্রা-চান্ডিল ও পুরুলিয়া-কোটশিলা শাখাকে যুক্ত করবে। এতে পণ্যবাহী ট্রেনের চলাচল সহজ হবে, কমবে যাত্রীবাহী ট্রেনের অপেক্ষাও। রেলের হিসাবে, আদ্রা ডিভিশনের পণ্য পরিবহণ এই করিডরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তৃতীয় লাইনের কাজ শেষ হলে চান্ডিল, বার্নপুর, বোকারো, রাঁচি ও জামশেদপুরমুখী পণ্য চলাচলেও গতি আসবে বলে আশা।














