দুর্গাপুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোকে ঘিরে উৎসবের আবহে মাততে প্রস্তুত হুগলি। কোথাও ফুল-ফলের বাড়তি দামে মধ্যবিত্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ, আবার কোথাও থিমের বৈচিত্র্য, আলোকসজ্জা আর সাত দিনের মেলাকে ঘিরে উৎসবের উন্মাদনা। তারকেশ্বর থানার অন্তর্গত পিয়াসারা রানা বাঁধে লক্ষ্মীপুজোর এমনই বর্ণময় আয়োজন। ছোট-বড় মিলিয়ে একটি গ্রামেই প্রায় ৩০ থেকে ৫০টি লক্ষ্মীপুজো, আর পুজোকে কেন্দ্র করে সাত দিন ধরে মেলা—সব মিলিয়ে কোজাগরীকে ঘিরে গ্রামবাংলার উৎসবের ছবি যেন পায় এক অন্য মাত্রা।
আগামী রবিবার, ২৫ অক্টোবর কোজাগরী পূর্ণিমা। দেবী লক্ষ্মীর আরাধনাকে কেন্দ্র করে হুগলি জেলার বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। বাড়ির পুজো থেকে বারোয়ারি আয়োজন—সব ক্ষেত্রেই ব্যস্ততা বাড়ছে। পুজোর উপকরণ সংগ্রহ, বাড়িঘর পরিষ্কার করা, আলপনা আঁকা এবং নৈবেদ্য তৈরির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত গৃহস্থরা। তবে উৎসবের আনন্দের মধ্যেও কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করেছে ফুল ও ফলের দাম। স্থানীয় কয়েকটি বাজারে ফুল ও ফলের জোগান যথেষ্ট থাকলেও দাম কিছুটা বেশি বলে জানাচ্ছেন ক্রেতারা। ফলে পুজোর বাজার করতে গিয়ে হিসেব কষতে হচ্ছে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলিকে।
ফুল, ফল, মিষ্টি-সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে গিয়ে খরচের দিকে নজর রাখতে হচ্ছে তাঁদের। তবু উৎসবের আনন্দে সেই বাড়তি খরচের সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছেন অনেকে। সংসারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির কামনায় দেবী লক্ষ্মীর আরাধনায় কোনও খামতি রাখতে চাইছেন না তাঁরা। হুগলির লক্ষ্মীপুজোর আকর্ষণ শুধু ঘরোয়া আরাধনায় সীমাবদ্ধ নয়। তারকেশ্বর থানার পিয়াসারা রানা বাঁধের থিমের লক্ষ্মীপুজো ঘিরে রয়েছে বিশেষ আকর্ষণ। বিভিন্ন ধরনের থিম ও মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে পুজোকে দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলেন উদ্যোক্তারা। মণ্ডপের সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা এবং থিমের বৈচিত্র্য দেখতে ভিড় জমান বহু মানুষ।
স্থানীয়দের মতে, এখানকার পুজোর জাঁকজমক কলকাতা ও আশপাশের এলাকার বহু দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলের সঙ্গেও পাল্লা দেওয়ার মতো। লক্ষ্মীপুজোর দিন থেকেই এখানে শুরু হয় সাত দিনের মেলা। পুজোকে কেন্দ্র করে মেলার এই দীর্ঘ আয়োজন গোটা এলাকায় তৈরি করে উৎসবের পরিবেশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার মানুষও মেলায় আসেন। কেনাকাটা, ঘোরাফেরা এবং উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠেন ছোট থেকে বড়—সব বয়সের মানুষ। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এই মেলা হয়ে ওঠে মানুষের সঙ্গে মানুষের মিলনের এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। পিয়াসারা রানা বাঁধের লক্ষ্মীপুজোর আকর্ষণের পাশাপাশি এই অঞ্চলের পুজোর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছোট-বড় মিলিয়ে একটি গ্রামেই প্রায় ৩০ থেকে ৫০টি লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন হয়।
কোথাও পারিবারিক ঐতিহ্য মেনে দেবীর আরাধনা, কোথাও আবার থিম ও মণ্ডপসজ্জায় থাকে বিশেষ আকর্ষণ। একাধিক পুজোকে কেন্দ্র করে গোটা গ্রামজুড়ে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। বাঙালির কাছে লক্ষ্মীপুজো মানেই সংসারের মঙ্গল, আর্থিক সমৃদ্ধি ও সুখ-শান্তির প্রার্থনা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পারিবারিক ঐতিহ্য, লোকাচার ও সামাজিক সম্প্রীতি। গ্রামবাংলার বিভিন্ন প্রান্তে লক্ষ্মীপুজোকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা মেলা সেই ঐতিহ্যকে আরও জীবন্ত করে তোলে। একদিকে বাজারে ফুল-ফলের বাড়তি দাম, অন্যদিকে থিমের বৈচিত্র্য ও মেলার আনন্দ—এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোকে ঘিরে উৎসবের আবহ হুগলিতে। বিশেষ করে তারকেশ্বরের পিয়াসারা রানা বাঁধে সাত দিনের মেলা এবং ছোট-বড় মিলিয়ে বহু পুজোর আয়োজন গ্রামীণ বাংলার উৎসব-সংস্কৃতির এক বর্ণময় ছবি তুলে ধরে।














