বাঙালির চা-আড্ডার সঙ্গে ভাঁড়ের সম্পর্ক বহু দিনের। রাস্তার ধারের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ব্যস্ত অফিসপাড়া— গরম ধোঁয়া ওঠা ভাঁড়ে চা খাওয়ার আলাদা আনন্দ রয়েছে। কিন্তু সেই পরিচিত ছবিতেই এবার দেখা দিয়েছে সমস্যা। কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় চায়ের ভাঁড়ের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চা বিক্রেতারা।
শহরের বহু চায়ের দোকানে এখন ভাঁড়ের বদলে কাগজের কাপে চা পরিবেশন করা হচ্ছে। অনেক ক্রেতাই জানাচ্ছেন, কাগজের কাপে চা খেলেও ভাঁড়ের সেই স্বাদ ও অনুভূতি পাওয়া যায় না। অন্যদিকে দোকানিরাও বলছেন, ভাঁড়ের জোগান কমে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে।
চাঁদনি চক, ধর্মতলা-সহ শহরের একাধিক এলাকার চা বিক্রেতাদের দাবি, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভাঁড়ের সরবরাহ কমে গেছে। আগে যেখানে সহজেই ভাঁড় পাওয়া যেত, এখন সেখানে বাড়তি দাম দিয়েও সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে আগের তুলনায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি দাম দিতে হচ্ছে।
ভাঁড় প্রস্তুতকারকদের মতে, সমস্যার মূল কারণ মাটির অভাব। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে যে মাটি এনে ভাঁড় তৈরি করা হতো, এখন সেই মাটি সংগ্রহে নানা বাধা তৈরি হয়েছে। ফলে উৎপাদন কমে গিয়েছে এবং বাজারে ভাঁড়ের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতির প্রভাব শুধু চায়ের ভাঁড়েই সীমাবদ্ধ নয়। পুজোর প্রদীপ, মাটির তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী এবং অন্যান্য হস্তশিল্প উৎপাদনেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারণ এই সমস্ত পণ্য তৈরির জন্য একই ধরনের মাটির প্রয়োজন হয়।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাটি সংগ্রহের বিষয়টি নিয়ে নজর রাখা হচ্ছে এবং দ্রুত সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামী দিনে ভাঁড়ের সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই।
চা বিক্রেতাদের একাংশের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে খুব শীঘ্রই অনেক দোকান থেকেই ভাঁড় সম্পূর্ণ উধাও হয়ে যেতে পারে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, বাঙালির প্রিয় ভাঁড়ে চা কি ধীরে ধীরে অতীতের স্মৃতি হয়ে যাবে? এখন সেই উত্তরই খুঁজছেন চা-প্রেমী থেকে ব্যবসায়ী সকলেই।














