নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে বিজেপির বড় জয়ের পর বিধানসভায় শপথগ্রহণের দিনই সামনে এল তৃণমূলের অন্দরের এক নতুন সমীকরণ। বিজেপির নবনির্বাচিত দুই বিধায়কের শপথ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন মমতা-পন্থী বলে পরিচিত তিন তৃণমূল বিধায়ক—মতিউর রহমান, অশোক দেব এবং আব্দুল মাতিন। তাঁদের উপস্থিতি ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা।
বুধবার বিধানসভায় নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথ ছিল। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী-সহ শাসকদলের বহু বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-ঘনিষ্ঠ বিধায়কদেরও দেখা যায়। তবে মমতা-পন্থী শিবিরের পরিচিত কয়েক জন মুখ শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ এবং বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় অনুষ্ঠানে ছিলেন না।
এই অনুপস্থিতির পিছনে রাজনৈতিক অবস্থানই কাজ করেছে বলে তৃণমূলের অন্দরে আলোচনা। তাঁদের যুক্তি, উপনির্বাচনের ফলকে তাঁরা সাধারণ নির্বাচনের জনমতের সরাসরি প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন না। কিন্তু একই সময়ে অশোক দেব, মতিউর রহমান এবং আব্দুল মাতিনের উপস্থিতি সেই অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিষয়টি নিয়ে অবশ্য দ্রুতই ব্যাখ্যা দিয়েছে তৃণমূল। কুণাল ঘোষের বক্তব্য, ‘‘এটা কমিউনিকেশন গ্যাপ। অশোক দেবরা শপথ অনুষ্ঠানে গিয়েছেন মানেই তাঁরা অন্য দিকে চলে গেলেন, এমনটা নয়।’’
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই উপস্থিতি আপাতত দলবদলের কোনও ইঙ্গিত না হলেও তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিজেপির পর পর দু’টি উপনির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর বিধানসভায় এই দৃশ্যের আলাদা তাৎপর্য রয়েছে।
নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে যাওয়া আসনে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। তিনি শুভেন্দুর প্রয়াত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা। ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটেও নন্দীগ্রামে শুভেন্দু তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করকে ৯,৬৬৫ ভোটে হারিয়েছিলেন।
অন্য দিকে, রেজিনগরেও বিজেপির শঙ্করভ সর্দার বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। ছ’মাস আগেও আসনটি ছিল হুমায়ুন কবীরের দখলে। তাঁর ছেলেকে প্রার্থী করেও সেই আসন ধরে রাখতে পারেনি তৃণমূল। দুই উপনির্বাচনের ফলের পর বিধানসভায় বিজেপির শক্তি যেমন আরও দৃশ্যমান হয়েছে, তেমনই শপথের মঞ্চে তৃণমূলের তিন বিধায়কের উপস্থিতি ঘিরে দলের ভিতরের রাজনৈতিক বার্তাও এখন আলোচনার কেন্দ্রে।














