Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

বীরভূমে পুলিশের ঘুষ চক্রে ধাক্কা, দুই পুলিশকর্মী সাসপেন্ড

বীরভূমে পুলিশের ঘুষ চক্রে ধাক্কা, দুই পুলিশকর্মী সাসপেন্ড

পুলিশের তোলাবাজির অভিযোগে উত্তাল বীরভূমে ট্রাক মালিক সমাজ। মোহাম্মদবাজার থানার আইসি প্রসেনজিৎ ঘোষ ও দুই পুলিশকর্মী স্থানীয় ট্রাক মালিকদের কাছ থেকে গাড়ি প্রতি ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা করে ঘুষ নিচ্ছেন বলে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠল। এই ঘটনায় বীরভূম জেলা ট্রাক অনার্স অ্যাসোসিয়েশন তদন্ত করে, প্রমাণ সংগ্রহ করে তৎক্ষণাৎ অভিযুক্ত দুই পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড এবং বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে বীরভূম জেলা পুলিশ।

মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে বীরভূম জেলা ট্রাক অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আনাস আহমেদ এই অভিযোগ এবং প্রমাণ উপস্থাপন করেন। ট্রাক মালিক ইন্দাদুল হোসেনের মাধ্যমে বালি লোড করে ভাড়া খাটের তালবান থেকে রামপুরহাট পর্যন্ত পরিবহন সংক্রান্ত কাজ চলাকালীন মোহাম্মদ বাজার থানার দুই পুলিশকর্মী কিরণ মন্ডল ও সাইফুল ইসলাম তার দুটি গাড়ি আটক করেন। কিছু দিনের মধ্যে কোর্টের অর্ডারে গাড়িগুলো রিলিজ দেওয়া হয়েছে, তবে পরে ওই পুলিশকর্মীরা চাপ ও টাকা দাবি শুরু করেন।

পুলিশ কর্মীরা টেলিফোনের মাধ্যমে হুমকি দিয়ে জানান, প্রতি গাড়ি পিছু ৬০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হবে, তা না হলে তারা কোর্টে এনওসি পেশ করবেন না। এই সমস্যায় পড়ে ইন্দাদুল হোসেন ট্রাক অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক আনাস আহমেদের সাহায্য নেন এবং টাকা জোগাড় করে পুলিশকে দেন। টাকা দেওয়ার সময় তিনি চতুরতার সঙ্গে ফোনে ভিডিও করেন, যা ওটিওর সঙ্গে মিলিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে তোলা হয়।

বীরভূম থেকে বিহার পর্যন্ত বালি পাচার, মোটা অংকের তোলাবাজি, এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচারে মোহাম্মদ বাজার থানা জড়িত থাকার কথাও সাংবাদিক বৈঠকে উঠে এসেছে। অভিযোগ করেছেন ট্রাক মালিকরা, প্রশাসনকে বহুবার অবগত করলেও কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ হয়নি।

ইমদাদুল হোসেন জানান, থানার বড়বাবুর নির্দেশে টাকাপ্রদান বাধ্যতামূলক। এটি না হলে তাঁর দুটি গাড়ি আটক থাকবে। আনাস আহমেদ বলেন, যারা প্রশাসনের রক্ষাকর্তা, তাদের থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। তিনি জানান, এই দুর্নীতিচক্রের প্রধান আইসি প্রসেনজিৎ ঘোষ। তারা এর বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে লড়াই করবেন।

পুলিশ দফতর থেকে জানানো হয়েছে, দুই পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বীরভূম জেলা পুলিশ এই ধরনের দুর্নীতি ও বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং এরূপ কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে।

READ MORE.....