অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ) ভারতের অনুর্ধ্ব-১৭ মহিলা জাতীয় ফুটবল দলের সহ-কারী কোচ হিসেবে অ্যান্থনি অ্যান্ড্রুসকে নিযুক্ত করেছে। দলে প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জোয়াকিম আলেকজান্ডারসন।
অ্যান্ড্রুস বর্তমানে ইস্টবেঙ্গল এফসির মহিলা দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এখন থেকে তিনি ক্লাব এবং জাতীয় দল—উভয় জায়গাতেই একই সাথে দায়িত্ব সামলাবেন।
আইডব্লিউএল (ইন্ডিয়ান উইমেনস লিগ)-এর ইতিহাসে সবচেয়ে সফল কোচ হিসেবে পরিচিত অ্যান্থনি অ্যান্ড্রুস। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে সাম্প্রতিক আইডব্লিউএল খেতাবসহ তিনি মোট চারবার আইডব্লিউএল শিরোপা জিতেছেন। ২০২১-২২ এবং ২০২২-২৩ মরশুমে গোকুলাম কেরালা এফসি-কে টানা দু’বার চ্যাম্পিয়ন করার পর, তিনি ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ মরশুমে ইস্টবেঙ্গল এফসি-কে পরপর দু’বার লিগ খেতাব এনে দেন। একাধিকবার আইডব্লিউএল ট্রফি জেতা একমাত্র কোচ তিনি।
আন্তর্জাতিক মঞ্চেও ইস্টবেঙ্গলকে সাফল্য এনে দিয়েছেন অ্যান্ড্রুস। অতি সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২০২৬-২৭-এর প্রিলিমিনারি পর্বে ক্লাবকে জয় এনে দেন তিনি। এর মাধ্যমে ইস্টবেঙ্গল ভারতের প্রথম মহিলা ফুটবল ক্লাব হিসেবে টানা দুই মরশুমে গ্রুপ পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। গত মরশুমে তাঁর অধীনেই ইস্টবেঙ্গল প্রথম ভারতীয় ক্লাব হিসেবে এএফসি উইমেনস চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বে ম্যাচ জয়ের নজির গড়েছিল। এছাড়া গত ডিসেম্বরে তাঁর কোচিংয়ে ‘মশাল গার্লস’রা সাফ উইমেনস ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপের খেতাবও ঘরে তোলে।
নিয়োগের পর অ্যান্ড্রুস তাসখন্দে অনুর্ধ্ব-১৭ মহিলা জাতীয় দলের শিবিরে যোগ দিয়েছেন। এএফসি অনুর্ধ্ব-১৭ উইমেন্স এশিয়ান কাপ চীন ২০২৭ কোয়ালিফায়ার্সের প্রস্তুতি হিসেবে আগামী ২৭ ও ৩০ আগস্ট উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে ভারতের তরুণীরা।
আগামী ৫ – ১১ অক্টোবর মালয়েশিয়ায় কোয়ালিফায়ার্স অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে গ্রুপ ‘ই’-তে স্বাগতিক মালয়েশিয়া, সিরিয়া এবং ইরাকের মুখোমুখি হবে ভারত।
দায়িত্ব পাওয়ার পর অ্যান্থনি অ্যান্ড্রুস বলেন: ‘ ভারত অনুর্ধ্ব-১৭ মহিলা জাতীয় দলের অংশ হতে পারা এক বিশাল সম্মান ও গর্বের বিষয়। আমার ওপর আস্থা রাখার জন্য আমি এআইএফএফ-এর কাছে কৃতজ্ঞ। ভারতীয় ফুটবলের আগামী প্রজন্মকে গড়ে তোলার এই সুযোগ পেয়ে আমি অত্যন্ত রোমাঞ্চিত। ‘
তিনি আরও যোগ করেন ‘ আমার কোচিং ক্যারিয়ারের বড় একটি সময় আমি মহিলা ফুটবলের যুব ও সিনিয়র পর্যায়ে কাজ করেছি। তাই দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা এমন এক দায়িত্ব, যা আমি অত্যন্ত নিষ্ঠা ও গর্বের সাথে গ্রহণ করছি। ইস্টবেঙ্গল এফসিতে যে পেশাদারিত্ব ও জয়ের সংস্কৃতি আমরা তৈরি করতে পেরেছি, তা জাতীয় দলের ফুটবলারদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে আমি মুখিয়ে আছি। ‘














