বিধানসভায় ফেরার লড়াইয়ে পুরোনো বন্ধুতেই ভরসা রাখল আলিমুদ্দিন। ফের জোট বাঁধছে সিপিএম এবং আইএসএফ। মঙ্গলবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে বিমান বসু ও মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর নওশাদ সিদ্দিকী জানিয়ে দিলেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়েই লড়াই করবেন। তবে জোটের জট পুরোপুরি কাটেনি। আসন ভাগাভাগি নিয়ে টানাপড়েন এখনও তুঙ্গে।
এই জট কাটাতে বুধবার ফের বৈঠকে বসছে দু’পক্ষ। সিপিএম সূত্রে খবর, আইএসএফ-কে ৩০টি আসন ছাড়তে রাজি সেলিমরা। কিন্তু ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী অনড় ৪৫টি আসনের দাবিতে। মঙ্গলবার দু’ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনার পর নওশাদ বলেন, ‘কয়েকটি আসনে আমরা ঐক্যমত্য হইনি। তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চূড়ান্ত হলেই তা জানানো হবে।’ কংগ্রেস ও হুমায়ুন কবীরকে নিয়ে আলিমুদ্দিনের পরিকল্পনা বিশেষ ফলপ্রসূ হয়নি। কংগ্রেস আগেই জানিয়ে দিয়েছে, তারা বামেদের সঙ্গে নেই।
অন্যদিকে, ঘরে-বাইরে চাপে থাকা হুমায়ুন কবীরও এখন বামেদের কাছে ‘ক্লোজড চ্যাপটার’। এই পরিস্থিতিতে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে নওশাদদের সঙ্গে জোট করা ছাড়া বামেদের কাছে বিকল্প পথ ছিল না বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা। তবে জোটের পথে প্রধান কাঁটা শরিকি কোন্দল। ২০২১ সালের তিক্ত অভিজ্ঞতা ভুলতে পারছেন না নওশাদ। সেবার দেগঙ্গা আসনটি আইএসএফ-কে ছাড়া হলেও সেখানে প্রার্থী দিয়েছিল ফরওয়ার্ড ব্লক। নওশাদ সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ‘২০২১ সালে বামেদের আমাদের দেগাঙ্গা আসন ছেড়েছিল।
সেখানে ফরওয়ার্ড প্রার্থী দিয়েছিল। এবার তা যাতে না হয় সেজন্য আলোচনা বাড়তি সময় ধরে চালানো হচ্ছে।’ শরিকি জট এবারও যথেষ্ট জটিল। ফরওয়ার্ড ব্লককে ১২ থেকে ১৫টি আসন ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছিল বামফ্রন্ট। কিন্তু নরেন চট্টোপাধ্যায়ের দল দাবি করেছে ৩০টি আসন। এমনকি আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট নিয়েও আপত্তি তুলেছিলেন নরেন। এই অভ্যন্তরীণ সংঘাত সামলে আসন সমঝোতা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, এখন সেটাই দেখার। বুধবারের বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।















