দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাসের অদূরে সত্য নিকেতন এলাকায় বহুতল ভেঙে পড়ে সাতজনের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এলো। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কয়েক দশক পুরনো ওই ভবনটিতে ভারবহনকারী কোনো স্তম্ভ (কলাম বা পিলার) এবং বিম ছিল না। তার ওপর দীর্ঘদিন ধরে ভূগর্ভস্থ অংশে (বেসমেন্ট) লাগাতার জল চুইয়ে পড়ার সমস্যা ছিল। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর ভবনের মূল মালিক ও পরিচালক পরিবারের তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে গাফিলতির অভিযোগে দক্ষিণ জোনের ডেপুটি কমিশনার-সহ পুরসভার পাঁচ পদস্থ ইঞ্জিনিয়ারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। রবিবার দুপুর আনুমানিক দেড়টা নাগাদ প্রায় ৫৫ বর্গমিটার জায়গার ওপর গড়ে ওঠা বেসমেন্ট এবং একতলা-সহ চার তলার ওই বয়েজ পেয়িং গেস্ট (পিজি) ভবনটি মেরামতের কাজ চলাকালীন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে।
ধ্বংসস্তূপ থেকে ১২ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও সাতজনের মৃত্যু হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, বেসমেন্টে জল চুইয়ে পড়ার কারণে সেখানে মেরামতের কাজ চলছিল। কোনো কাঠামোগত রদবদল বা নিয়ম লঙ্ঘন করে সংস্কারকাজ করার জেরেই এই বিপর্যয় ঘটল কি না, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। এই ঘটনায় ভারতীয় বায়ুসেনার অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট ৮১ বছর বয়সী হরিরাম গুপ্ত, তাঁর ৭৫ বছর বয়সী স্ত্রী উর্মিলা গুপ্ত এবং ৫২ বছর বয়সী পুত্র মহেশ গুপ্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, নথিপত্র অনুযায়ী ভবনের প্রকৃত মালিক উর্মিলা গুপ্ত, তবে তাঁর স্বামী ও পুত্র মিলে ওই পেয়িং গেস্ট আবাসনের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। দুর্ঘটনার পর দিল্লি পুরনিগমের (এমসিডি) অন্দরেও তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েছে প্রশাসন।
দক্ষিণ জোনের ডেপুটি কমিশনার রাকেশ কুমার, সুপারিন্টেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার রণবীর সিং, এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার ললিত কুমার গোয়েল, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সুনীল চৌহান এবং জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার আশিস কুমারকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গোটা দিল্লি জুড়ে বিপজ্জনক বহুতল চিহ্নিত করতে কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। উচ্চতা ও তলার সংখ্যা লঙ্ঘন করা বহুতলগুলির ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত শহরের সমস্ত নিয়মবহির্ভূত পাঁচতলা বাড়ি সিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে দিল্লির উপরাজ্যপাল তরণজিৎ সিং সান্ধু পেয়িং গেস্ট হাবগুলিতে বিশেষ পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। দিল্লি হাইকোর্ট গোটা ঘটনাকে “অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক” আখ্যা দিয়ে সরকারের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছে এবং পুরসভাকে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।














