Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

১৫ বছরে ৬ প্রধানমন্ত্রীর বদল হলেও আজও পদে বহাল ‘চিফ মাউসার’ ল্যারি

১৫ বছরে ৬ প্রধানমন্ত্রীর বদল হলেও আজও পদে বহাল ‘চিফ মাউসার’ ল্যারি

স্ট্রিটের মসনদে কেউ আসেন, কেউ যান। ব্রিটিশ রাজনীতিতে পালাবদল ঘটে নিয়ম করে। কিন্তু ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের সেই বিখ্যাত কালো দরজার সামনে ১৫ বছর ধরে ঠায় বসে আছে একজনই। সে ল্যারি। ব্রিটেনের সরকারি ‘চিফ মাউসার’। ডাউনিং স্ট্রিটের অন্দরে ইঁদুর ধরার চাকরিতে সম্প্রতি দেড় দশক পূর্ণ করল এই মার্জার। তার ১৫ বছরের কর্মজীবনে ডাউনিং স্ট্রিট দেখেছে ৬ জন প্রধানমন্ত্রীকে। ডেভিড ক্যামেরন থেকে কিয়ের স্টার্মার ক্ষমতার অলিন্দে রদবদল হলেও ল্যারির রাজকীয় চালে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আসেনি।

১৯ বছরের ল্যারি এখন ব্রিটিশ ‘সফট পাওয়ার’-এর অন্যতম বিজ্ঞাপন। ২০১১ সালে ব্যাটারসি ডগস অ্যান্ড ক্যাটস হোম থেকে তাকে নিয়ে এসেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। লক্ষ্য ছিল ইঁদুর নিধন এবং অতিথিদের আপ্যায়ন। ক্যামেরন জানিয়েছিলেন, ল্যারিকে নিজের বাড়িতে ‘স্বাগত জানিয়ে তিনি অভিভূত’। তারপর একে একে এসেছেন টেরেসা মে, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস এবং ঋষি সুনক। বর্তমানে কিয়ের স্টার্মারের জমানাতেও ল্যারি স্বমহিমায় উজ্জ্বল। আসলে ল্যারি এখন ব্রিটিশ রাজনীতির স্থিতিশীলতার প্রতীক। বিশ্লেষকদের মতে, তাকে পদ থেকে সরানো এখন যে কোনও প্রধানমন্ত্রীর জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকির বিষয়।

ল্যারির রাজকীয় উপস্থিতিতে মুগ্ধ হয়েছেন বিশ্বনেতারাও। বারাক ওবামা থেকে জেলেনস্কি ল্যারির সাক্ষাৎ পাননি এমন ভিভিআইপি কমই আছেন। ওবামার হাত থেকে সে উপহার পেয়েছে বলে শোনা যায়। আবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরের সময় তাঁর গাড়ির নিচে ঘুমিয়ে পড়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম কেড়েছিল এই ট্যাবি বিড়াল। যদিও ইঁদুর ধরায় তার দক্ষতা নিয়ে মাঝেমধ্যে প্রশ্ন ওঠে, তবু ল্যারি তার মেজাজে অনড়। কখনও পায়রার পিছনে দৌড়নো, কখনও আবার দরজার সামনে আড়মোড়া ভেঙে সে বুঝিয়ে দেয়, ডাউনিং স্ট্রিটের আসল মালিক কে।

ব্রিটেনে সরকারি কাজে বিড়াল নিয়োগের প্রথা নতুন নয়। সেই অষ্টম হেনরির আমল থেকে শুরু করে মার্গারেট থ্যাচারের সময়ের ‘হামফ্রে’— এই পরম্পরা দীর্ঘ। তবে ল্যারি যেন সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে। ক্ষমতার লড়াই বা রাজনীতির জটিলতা তাকে স্পর্শ করে না। তার এই দীর্ঘস্থায়ী ইনিংস দেখে মনে পড়ে যায় অ্যালফ্রেড লর্ড টেনিসনের সেই অমর পঙ্‌ক্তি,‘ফর মেন মে কাম অ্যান্ড মেন মে গো,/ বাট আই গো অন ফর এভার।’ ছবি সংগৃহিত।

READ MORE.....