‘৪ তারিখ ফল বেরোলে দেখবেন। জ্বলবেন, আর লুচির মতো ফুলবেন। আমাদের যে মাইনাস জায়গাগুলো ছিল, কাল আমরা এগিয়ে গিয়েছি। বিজেপি অনেক সিটে হারবে। এ বার মনে রাখবেন, যা সিট ছিল, তার অর্ধেকও পাবে না।’ বাংলায় প্রথম দফা ভোটগ্রহণের পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেভাবে বাংলায় তা বিজেপির সরকার গঠন নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করছেন এভাবেই তার পাল্টা দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার নিজের বিধানসভা এলাকায় এবং পাশের বিধানসভার জেলায় ফিরহাদ হাকিমের সমর্থনে প্রচারে বেরিয়ে মমতা বলেন, ‘এখন বলছ, তোমাকে ‘ক্যা’ করে দেব। যারা পশ্চিমবঙ্গে বাস করে, তাদের অধিকার নেই।
আর ২০২৫-এ যারা এসেছে, তাদের তুমি সাথী করে নিয়ে এসেছ অন্য জায়গা থেকে— তাদের বলছো নাগরিক অধিকার দেব। লজ্জা করে না? ভোট কেটেও কিছু হবে না। কাল দেখেছ গ্রাম বাংলায়? ৯৩ শতাংশ। মোদীবাবু, তোমার বিরুদ্ধে এই ভোটটা। কারণ, তোমরা এসআইআর-এর নামে মানুষের উপরে অত্যাচার করেছো। প্রায় ৩০০ জন মারা গিয়েছে। কালকেও ভোটের লাইনে চারজন মারা গিয়েছে। মনে রাখবেন, মানুষ ক্ষমা করবে না। যখন এসআইআরে নাম বাদ দিয়েছে, একমাত্র তৃণমূল কংগ্রস আপনাদের জন্য লড়েছে। এই বিজেপি বাদ দিয়েছে। ১ কোটি ২০ লক্ষ লোকের নাম বাদ দিয়েছিল। তার মধ্যে আমি সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে লড়াই করে ৩২ লক্ষ লোকের নাম তুলে দিয়েছি। বাদ বাকিদেরও তুলব আগামী দিনে। বাকিদেরও তুলব আগামী দিন। সব জোড়াফুল তৃণমূল। বিজেপি চোখে দেখবে সরষের ফুল। বিজেপিকে করতে হবে নির্মূল। তাই নিজের অধিকার রক্ষা করতে সকলে ভোট দেবেন।’
শুক্রবার সকালে কলকাতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নৌকা বিহার নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করে মমতার বক্তব্য, ‘কখনও ছাত্রছাত্রীকে অ্যাটাক করছো। কখনও মা-বোন নাকি রাস্তায় হাটতে পারে না বলছো। আজ আবার উনি নৌকাবিহার করেছেন। আমি বলি, পশ্চিমবঙ্গের গঙ্গা আর আপনার দিল্লির যমুনা মিলিয়ে নিন। পশ্চিমবঙ্গের গঙ্গা পরিষ্কার। তাই নৌকাবিহার করে হাওয়া খেয়েছেন সকালবেলায়। এটা ভোটের রাজনীতি। ফটোশপিং। চ্যালেঞ্জ করছি, গঙ্গায় নৌকাবিহার করেছেন, ভাল করেছেন। স্বাগত। আমিও যান চন্দননগরে পুজোর সময়ে গঙ্গাবিহার করতে করতে। আমি গঙ্গাসাগরেও যাই। আপনি একবার দিল্লির যমুনাতে ডুব দিয়ে আসবেন? দিল্লির যমুনা ক্যায়সা হ্যায়, পুরা দূষণ হ্যায়, পলিউটেড হ্যায়। আপনি দিল্লির যমুনাকে সামলাতে পারেন না। আর আমাদের গঙ্গায় এসে ফটো তোলেন।’
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের রাজনীতি করা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিতর্কিত মন্তব্য প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘আজ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের একজন প্রধানমন্ত্রী যে ভাষায় আক্রমণ করেছেন, আমি মনে করি ছাত্রসমাজ, যুবসমাজের এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা উচিত। আমাদের ছাত্রছাত্রীরা আমাদের গর্ব। আমাদের যুবক-যুবতীরা আমাদের গর্ব। আমাদের ভাই-বোনেরা আমাদের গর্ব।
বলছে ওখানে নাকি নৈরাজ্য চলছে। তুমি এক পয়সাও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে দিয়েছ? তুমি কি জানো যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ১ নম্বর র্যাঙ্কে আছে? কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রেসিডেন্সি, সেন্ট জেভিয়ার্স আছে। মাথায় রেখে দিও।’
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ সকালে কলকাতায় বসে প্রথম দফার ভোটেই বিজেপি অন্তত ১১০ আসনে জয় নিশ্চিত করেছে বলে যে দাবি করেছেন তা উড়িয়ে দিয়ে মমতার তীব্র আক্রমণ, ‘আপনার চেয়ারের তো একটা রেসপেক্ট আছে! আপনি মিটিংয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বলছেন, ইলেকশন হয়ে গেলে সকলকে পা নীচে করে আর মাথা উপরে করে ঝোলাবেন?
আর পেটাবেন? এ কি আপনার মুখে সাজে? এত কথা বাজে। এত খারাপ ভাষায় কথা বলতে পারেন। এত নির্লজ্জ কথা বলতে পারেন। বাংলা কামড়ে অমিতবাবুকে মিটিং করতে হয়েছে প্রশাসনকে নিয়ে। ভয় দেখাচ্ছেন সকলকে। কাকে ভয় দেখাচ্ছেন? ৪ তারিখের পরে তোমার দেখা নাই গো, তোমার দেখা নাই। আর কাউকে পাবেন না। ধাপ্পার ফুলঝুরি ক’দিন চলবে? মণিপুর জ্বলছে, মণিপুরকে সামলাও। যাও দিল্লি। নয়ডা জ্বলছে। বন্দুক দিয়ে নয়ডাকে শাসন করবে? মেয়েরা পর্যন্ত বেরোচ্ছে, তাদের গলা টিপে মারছে।’















