দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মথুরাপুর-২ ব্লকের কাশীনগরের মানুষদের জন্য প্রায় চার দশক ধরে একটি পুরনো নৌকা হয়ে আছে সেতুবন্ধন। সময়ের সঙ্গে খালের পানি কমে যাওয়ায় একসময় নৌকাটিকে দুটি নৌকা এবং কাঠের পাটাতনের মাধ্যমে অস্থায়ী সাঁকোতে রূপান্তরিত করা হয়েছে। আজ এই সাঁকোর মাধ্যমে প্রতিদিন শতাধিক মানুষ পারাপার হয়, এবং প্রতিজন মাত্র ১ টাকার বিনিময়ে সুবিধা নেন।
এই সাঁকো নৌকার কারণে মানুষ সময় ও শ্রম দুইই বাঁচাচ্ছে। যেখানে বাজারে পৌঁছাতে সাধারণ পথ ১০-২০ মিনিট সময় নিত, এই সাঁকো পার হয়ে যেতে মাত্র ১-২ মিনিট লাগে। স্থানীয়দের কাছে তাই এটি অমূল্য সম্পদ।
প্রায় ৪০ বছর আগে গোপাল বৈদ্যের বাবা জ্যোতিষ বৈদ্য এই পারাপারের ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। জ্যোতিষবাবুর প্রয়াণের পর কেউ নৌকা চালায়নি। এরপর বর্তমান সাঁকোর ব্যবস্থা আসে। যদিও ভাড়া মাত্র ১ টাকা, গোপাল বৈদ্য জানিয়েছেন যে খরচ চালাতে এটি যথেষ্ট নয়; ২ টাকার ভাড়া হলে সামান্য স্বস্তি পাওয়া যেত।
স্থানীয়রা চাইছেন সাঁকোটি পাকাপোক্ত হোক, কিন্তু মালিকের পরিবার এবং জমির আইনি বিষয় থাকায় এটি সহজ নয়। নৌকার মালিকের স্ত্রী নমিতা বৈদ্য বলেন, যদি সাঁকো পাকাপোক্ত হয়, সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে। খাড়ীর অঞ্চল সভাপতি নূর মোহাম্মদও জানালেন, এটি ব্যক্তিগত জমিতে হওয়ায় স্থায়ী সেতু সম্ভব নয়।
তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে—গোপাল বৈদ্যের অনুপস্থিতিতে এই ঐতিহ্য টিকবে কি? কাশীনগরের মানুষ এখনো এর উত্তর খুঁজছে।















