অহঙ্কারের পতন হবেই। বাংলায় জিতে আমরা দিল্লি দখল করব। গণতন্ত্রের জয় হবে’। বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা ভোটগ্রহণ এর আগেই সোমবার বীরভূমের মুরারইয়ের জনসভা থেকে এভাবে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বলেন, ‘যাঁরা বিজেপির হয়ে কাজ করছ, আগামী দিনে যেখানেই থাকো, খুঁজে বার করব আর নারকেলের নাড়ু খাওয়াব। আমাদের একটাই এজেন্সি। তোমাদের হাজারটা আছে। তাদেরও বলেছে বাংলা ছেড়ে চলে যেতে! লজ্জা করে না? তিন সপ্তাহ পরে তৃণমূলের সরকারই আসছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইভিএম লুট করার। আমাদের কাছে খবর আসছে। গণনার মেশিনে যারা ভোট গুনতে যাবেন, তাঁরা বিষয়টি নজরে রাখবেন। কেউ ১০০ পেলে ওরা কম্পিউটারে তুলবে পাঁচ। দেখে নেবেন। যত ক্ষণ কম্পিউটারে ভোট না তোলা হবে, কেউ হাল ছাড়বেন না। লড়ে যাবেন। যুদ্ধ জয় করতে হবে’। প্রথম দফার ভোটের ঠিক তিন দিন আগে সোমবার বীরভূমের মুরারইয়ে ঝোড়ো প্রচার সারলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আগে এদিন মুরারইয়ের জনসভা থেকে একদিকে যেমন উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরলেন, অন্যদিকে তেমনই বিজেপি ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী। বীরভূমের মানুষের উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, ‘আপনাদের দীর্ঘ দিনের দাবি ছিল, দ্বারকা নদীর উপর একটা স্থায়ী সেতু নির্মাণ। আমরা সেতু তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি। প্রাথমিক রিপোর্টও তৈরি হয়ে গিয়েছে। ৫৬ কোটি টাকার বেশি খরচ হবে। ভোটের জন্য কাজ শুরু করতে পারিনি। ভোট মিটলেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। পুরাতনগ্রাম থেকে সেকেন্ডা পর্যন্ত সেতুটা হবে। সাধারণ মানুষের অনেক সুবিধা হবে।
স্থানীয় ব্যবসায় উন্নতি হবে। লক্ষ্মীর ভান্ডার সারাজীবন পাবেন। যুবসাথী যাঁরা পাচ্ছেন, তাঁদের চাকরির ব্যবস্থা আমরা করে দেব। এখনও যাঁরা পাকা বাড়ি করে উঠতে পারেননি, করে দেব। পানীয় জল সর্বত্র পৌঁছে দেব। শান্তির জন্য লড়ুন, ভাষা-জাতিকে রক্ষা করুন, ভোটাধিকারের জন্য লড়ুন। তৃণমূল সরকার থাকলে আপনাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত থাকবে। এ বারের ভোটটাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখুন। বিজেপির কাছ থেকে টাকা নিয়ে কেউ কেউ নির্দল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধর্ম, দলকে বিক্রি করা যায় না। নির্দলের কোনও জাত নেই, দল নেই। সম্প্রদায়ের সঙ্গে যাঁরা বিশ্বাসঘাতকতা করেন, তাঁদের ক্ষমা করবেন না। লোকসভায় আমরা বিজেপি-কে হারিয়েছি। ২০২৬ সালেই বাংলায় হারাব ওদের। তার পর দিল্লি থেকে তাড়াব’।
রবিবার নির্বাচনে প্রচারে বেড়িয়ে ঝাড়গ্রামে গাড়ি থেকে নেমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যেভাবে ঝালমুড়ি খেয়েছেন দোকানে গিয়ে সেই ঘটনাকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, ‘সব সাজানো। ১০ টাকা কখনও ওঁর পকেটে থাকে? কত নাটক! ঝালমুড়িও নিজেরা তৈরি করে রেখেছে। না হলে দোকানে ক্যামেরা ফিট করা থাকল কী করে? অনেককে গ্রেফতারের পরিকল্পনা করেছে। লিস্ট আমি পেয়ে গিয়েছি। ইঞ্চিতে-ইঞ্চিতে লড়ব। শুধু তৃণমূলকে টার্গেট করেছে। এই বীরভূম থেকে এক নেতা লড়ছে। কোটি-কোটি টাকা কয়লা থেকে খায়। ভদ্রতা করে নাম বলছি না। সবচেয়ে বড় দুরাচারী বিজেপি’।














