Facebook
Twitter
LinkedIn
Threads
X
Email
WhatsApp
Telegram
StumbleUpon
Pinterest
Skype
Pocket

১১০০ কোটি টাকার ‘শেল কোম্পানি’ দুর্নীতি: ইডির জালে কলকাতার ব্যবসায়ী জয় কামদার

১১০০ কোটি টাকার ‘শেল কোম্পানি’ দুর্নীতি: ইডির জালে কলকাতার ব্যবসায়ী জয় কামদার

জমি দখল ও বেআইনি আর্থিক লেনদেনের (মানি লন্ডারিং) অভিযোগে কলকাতার ব্যবসায়ী জয় এস কামদারকে গ্রেফতার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ভুয়ো বা ‘শেল’ কোম্পানির মাধ্যমে প্রায় ১,১০০ কোটি টাকার বেআইনি লেনদেন চক্র চালানোর অভিযোগ রয়েছে সান এন্টারপ্রাইজের এই ম্যানেজিং ডিরেক্টরের বিরুদ্ধে।
​সোনা পাপ্পু যোগ এবং বিপুল টাকার দুর্নীতি:
ইডি সূত্রে খবর, কামদার হলেন কুখ্যাত দুষ্কৃতী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী। রাজনৈতিক মহলে প্রভাবশালী বলে পরিচিত পাপ্পু, প্রোমোটিং বা রিয়েল এস্টেট ব্যবসার আড়ালে মূলত তোলাবাজি এবং জমি দখলের বড়সড় চক্র চালাত বলে অভিযোগ।
​তদন্তকারীদের দাবি, এই দুইজনের মধ্যে গভীর আঁতাত রয়েছে। কামদারের সংস্থা ‘সুপ্রিম ক্রেডিট কর্পোরেশন লিমিটেড’ থেকে পাপ্পুর সংস্থা ‘এসপি কনস্ট্রাকশনে’ ১.৫ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছিল। এছাড়া পাপ্পুর স্ত্রী সোমা সোনার পোদ্দারের মালিকানাধীন সংস্থা ‘হেভেন ভ্যালি’-র সাথেও কামদারের সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে।
​ডিজিটাল প্রমাণ ও টাকার হদিস:
কামদারের কাছ থেকে বেশ কিছু ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। সেখান থেকে মিলেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর চ্যাট ও আর্থিক রেকর্ড। ইডির দাবি:
​ক্যালকাটা গুজরাটি এডুকেশন সোসাইটি থেকে অন্তত ৪০ কোটি টাকা ‘চিকাস এন্টারপ্রাইজ’-এর মতো ভুয়ো বা শেল সংস্থায় সরানো হয়েছে।
​মাত্র চার মাসের মধ্যে ৫০০ কোটি টাকার বেশি নগদ জমা করার প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা, যা ১,১০০ কোটি টাকার বৃহত্তর দুর্নীতির একটি অংশ।
​বাজেয়াপ্ত করা নথিতে ব্রিটেন, মালয়েশিয়া এবং দুবাইয়ের মতো জায়গায় আর্থিক লেনদেনের চ্যাট হিস্ট্রি মিলেছে। পাশাপাশি একটি খাতায় ‘শান্তনু স্যার’ নামের উল্লেখ পাওয়া গেছে, যা নিয়ে জোরদার তদন্ত শুরু হয়েছে।
​আদালতে পেশ ও ইডি হেফাজত: রবিবার গ্রেফতারের পরেই বুকে ব্যথার অভিযোগ করায় কামদারকে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে আদালতে পেশ করার জন্য ‘ফিট’ ঘোষণা করলে, বিশেষ আদালত আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত জয় কামদারকে ইডি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
​আদালতে কামদারের আইনজীবী জামিনের আবেদন করে জানান যে, তাঁর মক্কেল তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন এবং টাকা বেআইনি প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত লেনদেনকে বেআইনি বলা যায় না।
​অন্যদিকে, সরকারি আইনজীবী জানান, এর আগে তল্লাশি চালিয়ে কামদারের বাড়ি থেকে ১.২ কোটি টাকা নগদ এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছিল। তিনি পর পর দুটি সমন এড়িয়ে গেছেন এবং তদন্তে অসহযোগিতা করেছেন। এই দুর্নীতির নেপথ্যে থাকা প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করতে এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাট রুখতে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করা একান্ত প্রয়োজন। মূল অভিযুক্ত সোনা পাপ্পু এখনও অধরা, তার খোঁজে তল্লাশি চলছে।

READ MORE.....