সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ‘ক্লিকবেইট’ বা চমক দিয়ে দর্শক টানার রেওয়াজ নতুন কিছু নয়। কিন্তু খোদ ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) যখন সেই সস্তা চমকের রাস্তায় হাঁটে, তখন ভক্তদের ক্ষোভের মুখে পড়াটা যে নেহাতই স্বাভাবিক, তা ফের একবার প্রমাণিত হল। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাঞ্চেস্টারে আয়োজিত প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বোর্ডের পোস্ট করা একটি ভিডিও ঘিরেই এখন বিতর্কের ঝড়। আর সেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন বিস্ময়-প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশী। বোর্ডের এহেন আচরণে রীতিমতো ক্ষুব্ধ নেটিজেনদের সোজাসাপটা প্রশ্ন, ‘যাঁকে প্রথম একাদশে সুযোগই দেবে না, তাঁকে দিয়ে ভিডিওর শুরুটা করার কী মানে?’ ম্যাঞ্চেস্টারে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি ঘিরে ভারতীয় সমর্থকদের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো।
অনেকেই আশায় বুক বেঁধেছিলেন, এই ম্যাচ দিয়েই হয়তো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মূল আঙিনায় অভিষেক ঘটতে চলেছে তরুণ বৈভবের। কিন্তু টসের পর যখন প্রথম একাদশ ঘোষণা করা হল, তখন হতাশা গ্রাস করে অনুরাগীদের। দেখা যায়, প্রথম একাদশে জায়গা হয়নি এই তরুণ তুর্কির। তাঁকে জায়গা দেওয়া হয়েছে রিজার্ভ বেঞ্চে। দল নির্বাচন নিয়ে এমনিতেই সমর্থকদের মধ্যে একটা চাপা ক্ষোভ ছিল, তবে সেই আগুনে রীতিমতো ঘি ঢালার কাজটি করে খোদ বিসিসিআই-এর সোশ্যাল মিডিয়া সেল। ম্যাচ শেষের পর বোর্ডের তরফ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের অন্দরমহলের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়, যার একেবারে শুরুতেই ফ্রেম জুড়ে রাখা হয়েছিল সেই বৈভবকেই।
বোর্ডের এই ‘ডিজিটাল পিআর’ বা জনসংযোগের চতুর কৌশলটি বুমেরাং হয়ে ফিরতে একেবারেই সময় নেয়নি। ক্রিকেটপ্রেমীদের বুঝতে বিন্দুমাত্র অসুবিধা হয়নি যে, ভিডিওর ভিউ বাড়াতে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় এনগেজমেন্ট টানতেই বৈভবের বর্তমান জনপ্রিয়তাকে নির্লজ্জভাবে হাতিয়ার করেছে বোর্ড। এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিতে শুরু করেন ফ্যানেরা। কমেন্ট বক্সে সমালোচনার বন্যা বয়ে যায়। কারও ঝাঁজালো মন্তব্য, ‘ছেলেটাকে তো গোটা ম্যাচ রিজার্ভ বেঞ্চেই বসিয়ে রাখলে, তাহলে ওকে দিয়ে ভিডিও শুরু করার এই অর্থহীন প্রচার কেন?’ আবার কারও মতে, দলের পারফরম্যান্স এবং সঠিক দল গঠনের চেয়েও বোর্ড এখন সোশ্যাল মিডিয়ার লাইক-শেয়ারের অঙ্কে বেশি মজে রয়েছে।
ইউরোপীয় ঘরানার ক্রীড়া সাংবাদিকতায় এমন ঘটনাকে অহরহ ‘কসমেটিক প্রেজেন্স’ বা নিছক রূপটানের স্বার্থে ব্যবহার করা বলে কটাক্ষ করা হয়। এদিন ভারতীয় বোর্ডের বিরুদ্ধেও ঠিক একই অভিযোগ তুলেছেন ক্রিকেট অনুরাগীরা। একজন তরুণ ক্রিকেটার, যাঁর প্রতিভা নিয়ে গোটা ক্রিকেটমহলে চর্চা চলছে, তাঁকে মাঠে নামার সুযোগ না দিয়ে নিছক প্রচারের মুখ বা সোশ্যাল মিডিয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করাটা যে অত্যন্ত কুরুচিকর এবং অপমানজনক, তা বোর্ডের কর্তাদের কড়া ভাষায় মনে করিয়ে দিয়েছেন ভক্তরা। মাঠের বাইরে বিজ্ঞাপনী চমক বা সোশ্যাল মিডিয়ার ভিউ-এর চেয়ে ২২ গজে প্রতিভার মূল্যায়ন যে অনেক বেশি জরুরি, ম্যাঞ্চেস্টারের এই ঘটনা যেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে সেই কড়া বার্তাই দিয়ে রাখল।














