কেরল এখন দেশের প্রথম চরম দারিদ্র্যমুক্ত রাজ্য। শনিবার সকাল ন’টায় শুরু হওয়া বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এই ঐতিহাসিক ঘোষণা করেন। তিনি জানান, এটি মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নেওয়া পদক্ষেপ এবং এটি গোটা রাজ্যের জন্য গর্বের মুহূর্ত। বিজয়নের মতে, কেরল প্রমাণ করেছে যে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় অসম্ভব কিছুই নেই। সরকার এখন নিশ্চিত করবে, যারা দারিদ্র্যের চক্র থেকে বেরিয়ে এসেছে, তারা যেন আর সেখানে ফিরে না যায়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেরলের এই সাফল্য দেশের অন্য রাজ্যগুলির জন্য অনুপ্রেরণার মডেল হবে। তিনি জোর দিয়ে জানান, এটি কোনো সমাপ্তি নয়, বরং উন্নয়নের নতুন সূচনা। তবে, এই ঘোষণার বিরোধিতায় বিধানসভায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিরোধী দলনেতা ভিডি সতীসন অভিযোগ করেন, সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভার পদ্ধতি লঙ্ঘন করে প্রতারণামূলকভাবে ঘোষণা করেছেন। সতীসনের মতে, সংবাদপত্রে প্রচার পাওয়ার জন্যই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।বিরোধী বিধায়করা অধিবেশনের মধ্যেই স্লোগান দিয়ে ওয়াকআউট করেন। পরে তারা বিধানসভা ভবনের বাইরে বিক্ষোভেও অংশ নেন। তাঁদের অভিযোগ, সরকার গরিব মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং বাস্তবে রাজ্য এখনো দারিদ্র্যমুক্ত নয়।
এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদের এমন আচরণ এখন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, কেরল সরকারের প্রতিটি উদ্যোগ পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্তের ফল। পরিষদীয় মন্ত্রী এমবি রাজেশও ওয়াকআউটের সমালোচনা করে বলেন, ইতিহাস এই ঘটনার সাক্ষী থাকবে। তাঁর মন্তব্য, বিরোধীরা কেরলের ঐতিহাসিক অর্জন মেনে নিতে পারেননি। অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন, কেরল এখন দেশের প্রথম চরম দারিদ্র্যমুক্ত রাজ্য। এই মুহূর্তে, বলেন তিনি, বিধানসভার প্রতিটি সদস্য গর্ব অনুভব করবেন।














