তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপালে মেঘভাঙা প্রবল বৃষ্টি এবং হিমবাহ হ্রদ ফেটে সৃষ্টি হওয়া সর্বনাশা হড়পা বানে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিপর্যয়ের জেরে নিখোঁজ হয়ে পড়েছেন চার শতাধিক মানুষ, যাঁদের মধ্যে কৈলাস মানসরোবর যাত্রায় যাওয়া অন্তত ১০৫ জন ভারতীয় পুণ্যার্থী রয়েছেন। তিব্বত সীমান্ত থেকে তীব্র গতিতে নেমে আসা ভোটকোশী ও ত্রিশূলী নদীর জলস্তর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় একাধিক পাহাড়ি গ্রাম, সেতু, রাস্তাঘাট এবং নির্মীয়মাণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিমেষে জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে।
পাহাড়ি নদীগুলির বিধ্বংসী স্রোত ও জলস্তর অত্যন্ত বেশি থাকায় রসুয়া জেলার স্যাপারু বেসি এবং তিমুরে এলাকায় উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার অবতরণ করতে পারছে না। ফলে ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধারকাজ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সীমান্তের ওপারে তিব্বত অংশে জমে থাকা বিপুল জলরাশি আচমকা ফেটে গিয়ে এই ধ্বংসযজ্ঞের সূচনা করে। সীমান্তের ওপারে চিনের গিরং এলাকাতেও ব্যাপক ভূমিধসের জেরে বহু প্রাণহানি ও বিপর্যয়ের খবর মিলেছে। চিনা প্রশাসনের তরফেও সীমান্ত এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। নেপাল পর্যটন দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মানসরোবর যাত্রার পথে থাকা পুণ্যার্থীদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ফলে নিখোঁজ ভারতীয়দের পরিবারে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে ৮ জন দক্ষিণ কোরীয় প্রকৌশলীও রয়েছেন। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সেনা ও পুলিশকে পুরোদমে উদ্ধারকাজে নামিয়েছেন। এদিকে নেপালের এই জলোচ্ছ্বাস গণ্ডক ও নারায়ণী নদী দিয়ে ভারতে প্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় বিহার ও উত্তরপ্রদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিহার প্রশাসনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। যে কোনও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর একাধিক দলকে।














