বিধানসভা ভোটের আগে বিশ্বভারতীতে আবারও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। ফের ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবনের দেওয়ালে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-র পোস্টার ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ভোটের আবহে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ও এসএফআই সহ একাধিক ছাত্র সংগঠন সরব হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শীঘ্রই বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হবে বলেও তাঁরা জানিয়েছে। যদিও এই নিয়ে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, সব সময় সব জায়গায় নজর রাখা সম্ভব হয় না।
তবে নজরে পড়লে রাজনৈতিক পোস্টার যে দলই লাগাক তা খুলে দেওয়া হয় যত দ্রুত সম্ভব।জানা গিয়েছে, এর আগেও বিশ্বভারতীতে একাধিকবার তথাকথিত ‘গৌরিকীকরণ’-এর অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনাও হয়েছে। কিছুদিন আগেই রামনবমীর সময় বিনয় ভবনের হোস্টেলে ‘জয় শ্রীরাম’ পতাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়।
পরে কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে সেই পতাকা নামানো হলেও, ক্যাম্পাসে লাড্ডু বিলি ও স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের পোস্টার বিতর্কে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বিশ্বভারতী।মঙ্গলবার বিশ্বভারতীর ফিজিক্যাল এডুকেশন মাঠের দেওয়াল এবং শান্তিশ্রী হোস্টেলের সামনে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-র পোস্টার দেখা যায়।
পোস্টারগুলিতে লেখা ছিল— ‘জয়েন এবিভিপি’, ‘২৩ ও ২৯ এপ্রিল ভোট ফর ওয়েস্ট বেঙ্গল’, ‘পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থ রক্ষায় একশো শতাংশ ভোট প্রদান করুন’ সহ একাধিক রাজনৈতিক বার্তা। এছাড়াও দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নারী সুরক্ষা, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা ও তোষণের রাজনীতি বন্ধ করার দাবিও তোলা হয়েছে। যা নিয়েই সরব হয়েছে তৃণমূল ও বাম ছাত্র সংগঠন। যদিও এই নিয়ে বিশ্বভারতীর এবিভিপি ইউনিটের সম্পাদক সুমিত পাল বলেন, নির্ধারিত নির্বাচনের তারিখের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু কোন দলকে ভোট দেবেন, তা বলা হয়নি। এই কাজটি জন্মলগ্ন থেকেই আমাদের সংগঠন করে আসছে। আগামীদিনেও আমরা এই প্রচার অভিযান চালাব।
এমনকি গৌরিকীকরণের অভিযোগও তাঁরা উড়িয়ে দেন।তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শুভদীপ দে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কর্মী ও অধ্যাপকদের মদতে সংগঠন না থাকা সত্ত্বেও তারা বিশ্বভারতীর সম্মানহানি মতো বিভিন্ন কার্যকলাপ করে চলেছে। যেহেতু এখনপর্যন্ত বিশ্বভারতীর কর্তৃপক্ষ এতে নীরব। তাই আমরাও আগামীতে একই পথে হাঁটব। এসএফআই জেলা সম্পাদক সৌভিক দাসবক্সী বলেন, বিশ্বভারতীর ঐতিহ্যের বিরুদ্ধেই আরএসএস ও তাদের ছাত্র সংগঠন। আসলে এই উপাচার্য এবং কতৃপক্ষের মদতেই বারংবার রবীন্দ্র ঐতিহ্যকে কালিমালিপ্ত করার সাহস দেখাচ্ছে তারা। কতৃপক্ষ দ্রুত ওই দেওয়াল না মুছলে এসএফআই এই অসভ্যতার বিরুদ্ধে উপাচার্যের দফতরে অবস্থান করবে।















