সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে পরিচ্ছন্নতা, নার্সিং স্টাফের ঘাটতি এবং হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে রোগীদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া মিললেও চিকিৎসক ও নার্সিং স্টাফদের বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে বলে জানান তিনি। পরিদর্শনের পর স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে মন্ত্রী জানান, চিকিৎসক ও নার্সদের কাজের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।
বসার জায়গা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং বিশ্রামের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকলে পরিষেবার উপর তার প্রভাব পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিশেষ করে ইমার্জেন্সি বিভাগে আরও নার্সিং পরিষেবার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান। মহিলা চিকিৎসকদের রেস্ট রুম এবং হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে নিরাপত্তার ঘাটতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী। হাসপাতালের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানান, জেলা পুলিশের পক্ষে গোটা হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলানো কঠিন।
পরবর্তী পরিদর্শনে হাসপাতাল ও মহিলা হস্টেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখবেন বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে, রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও নেতিবাচক অভিযোগ পাননি বলে দাবি করেন মন্ত্রী। তাঁর কথায়, রোগীরা চিকিৎসক ও নার্সদের পরিষেবা নিয়ে সন্তুষ্ট বলেই জানিয়েছেন। পাশাপাশি হাসপাতালে ‘থ্রেট কালচার’ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের একজনকে আপাতত দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনও শেষ হয়নি বলেও স্পষ্ট করেন। এই প্রসঙ্গে অভীক দে-র নাম করে মন্ত্রী দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনাময় হাসপাতালের হাজিরা খাতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মন্ত্রীর অভিযোগ, অভীক দে নিয়মিত অনাময়ে হাজিরা দিতেন না এবং স্নাতকোত্তর শিক্ষায় প্রবেশের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন বলে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ে রিপোর্ট জমা পড়বে। তাঁর বক্তব্য, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হবে না। ‘থ্রেট কালচার’ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের উদ্দেশে মন্ত্রীর বার্তা— ‘ভয় আউট, ভরসা ইন।’ একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, হাসপাতালকে ঘিরে কোনও ধরনের ভয় বা চাপের পরিবেশ বরদাস্ত করা হবে না।














