টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টি এবং দীর্ঘদিনের বেহাল জলনিকাশি ব্যবস্থার কারণে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা ব্লকের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ধানের বীজতলা পুরোপুরি জলের তলায়। দিনের পর দিন জমা জল না নামায় অধিকাংশ বীজতলা পচে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। চাষের মরশুম মাঝপথে এসে পৌঁছানোয় নতুন করে চারা তৈরির সময়ও আর নেই। ফলে জমিতে রোয়া সম্পন্ন করতে নদী পেরিয়ে পার্শ্ববর্তী দ্বীপগুলি থেকে চড়া দামে ধানের চারা কিনে আনতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। নামখানার পাশাপাশি মৌশুনী দ্বীপের মতো দুর্গম এলাকা থেকেও নৌকায় করে চারা পরিবহন করছেন চাষিরা। কৃষকদের অভিযোগ, চরম সংকটজনক এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অসাধু চক্র চারার দাম আকাশছোঁয়া করে তুলেছে।
এক কেজি ধানের চারা কিনতে বর্তমানে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে, যা সাধারণ চাষিদের নাগালের বাইরে। স্থানিয় কৃষক চন্দন গুচ্ছাইত ও অনুকূল জানা জানান, এলাকার মজে যাওয়া খাল-নালার কারণে বৃষ্টি হলেই জল আটকে যায়। চড়া দামে বীজতলা কিনে এনে জমিতে রোয়ার পরও ফের বৃষ্টিতে তা ডুবে নষ্ট হয়েছে। একদিকে নিজস্ব বীজতলা নষ্ট হওয়ার আর্থিক ক্ষতি, আর অন্যদিকে চড়া দামের চারা এবং অতিরিক্ত নৌকা পরিবহণ খরচ—সব মিলিয়ে চলতি মরশুমে মারাত্মক লোকসানের মুখে পড়েছেন তাঁরা। দ্রুত খাল ও নালা সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকার ভুক্তভোগী চাষিরা। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সাগর বিধানসভার বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল জানান, “যে সমস্ত এলাকায় জলনিকাশির সমস্যা রয়েছে, সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী ড্রেজার নামিয়ে খাল কাটার ব্যবস্থা করা হবে।
মাটি জমে মজে যাওয়া খালগুলি দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।” প্রশাসনের আশ্বাস মিললেও আপাতত দুশ্চিন্তা কাটছে না কৃষকদের। অতিরিক্ত ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে নদী পেরিয়ে চারা কিনে কোনোরকমে চাষ সম্পন্ন করলেও, শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ফলন মিলবে কিনা এবং এই বিপুল খরচের ধাক্কা সামলে লাভের মুখ দেখা সম্ভব হবে কি না—তা নিয়েই চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন নামখানার শয়ে শয়ে কৃষক পরিবার।














