তিলোত্তমার স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিগন্ত। সোমবার ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট অধিবেশনে কলকাতা পুরসভার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ দাবি করলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও প্রযুক্তির মেলবন্ধনে শহরে ম্যালেরিয়া এবং ডেঙ্গির দাপট এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে।
বিরোধীদের খোঁচা সামলে ঘাটতি বাজেট নিয়ে তাঁর সাফ কথা, ‘ঘাটতি বাজেট নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কোনও কারণ নেই। ঘাটতি বাজেট উন্নয়নশীল দেশে হয়ে থাকে।’ পুরসভার অন্দরে এদিন স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন অতীনবাবু। তিনি জানান, সুস্থ ও সমৃদ্ধ শহর গড়তে স্বাস্থ্য বিভাগ বদ্ধপরিকর। বর্তমানে কলকাতার প্রতি ১.৫ কিলোমিটার অন্তর গড়ে তোলা হয়েছে সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র। ১৩১টি এই ধরণের কেন্দ্র শহরের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে অন্য রাজ্যের তুলনায় কয়েক কদম এগিয়ে দিয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রের আওতায় রয়েছেন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া মোকাবিলায় গত ১৫ বছরের কঠোর পরিশ্রমের সুফল মিলছে বলে তাঁর দাবি।
ডেপুটি মেয়রের কথায়, ‘র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গি অনেকটাই কমাতে পেরেছি।’খাদ্য সুরক্ষা ও পানীয় জলের গুণমান বজায় রাখতেও কড়া নজরদারি চালাচ্ছে পুরসভা। ইতিমধ্যেই ১৩,৪৭২ জনকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। শহরের পাশাপাশি জেলাতেও ফুড সেফটি অফিসাররা তৎপর রয়েছেন। ৪,১৫৮টি জায়গায় জলের মান পরীক্ষা করে নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি মেয়র পারিষদ তারক সিং শহরের নিকাশি ও পরিকাঠামো নিয়ে আশার বাণী শোনান।
তিনি জানান, প্রায় ১৪ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৬টি জলাশয় তৈরি হচ্ছে। তাঁর আশ্বাস, ‘কলকাতার আর কোনও জায়গায় জল জমবে না।’ এমনকি সিরিটি শ্মশানের আধুনিকীকরণকে দেশের মধ্যে সেরা বলে দাবি করেন তিনি।তবে বাজেট অধিবেশন কেবল উন্নয়নের কথাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তৃণমূল কাউন্সিলর মহেশ শর্মার একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিজেপি কাউন্সিলর মীনাদেবী পুরোহিত, সজল ঘোষ ও বিজয় ওঝাদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামতে হয় দেবাশিস কুমারকে। শেষমেশ চেয়ারপার্সন মালা রায়ের হস্তক্ষেপে শান্ত হয় কক্ষ।















