রাজনৈতিক শিষ্টাচারের সীমা ছাড়িয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মৃত্যু কামনা করে ফের বিতর্কে জড়ালেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে কুরুচিকর মন্তব্য করেন তিনি, বলেন শুভেন্দু যাতে দ্রুত পৃথিবী ছেড়ে চলে যান, সেজন্য তিনি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করবেন।প্রশাসনিক প্রধান বা শাসকদলকে নিশানা করা হুমায়ুনের কাছে নতুন কিছু নয়।
এর আগেও নিজের এলাকা রেজিনগর বা নওদায় মুখ্যমন্ত্রী গেলে তাঁকে শিক্ষা দেওয়ার হুমকি এবং প্রশাসনকে উপেক্ষা করার হুঙ্কার দিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছিলেন তিনি। তবে এদিনের বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে সমস্ত সৌজন্যের সীমা অতিক্রম করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতায় আসার পর থেকে শুভেন্দু অহংকারী হয়ে উঠেছেন এবং তাঁর জমানায় সংখ্যালঘুদের ওপর ক্রমাগত অত্যাচার চলছে।এরপরই মুখ্যমন্ত্রীর অকালমৃত্যু কামনা করে কটূক্তি করেন হুমায়ুন এবং মন্তব্য করেন যে ক্ষমতার অহংকারের পতন অনিবার্য।এখানেই থামেননি তিনি। ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী, মাধবরাও সিন্ধিয়া ও অজিত পওয়ারের করুণ পরিণতির প্রসঙ্গ টেনে দাবি করেন, অতীতে যাঁরা আস্ফালন দেখিয়েছেন, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীরও একই পরিণতি হবে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ তুলেও তিনি স্মরণ করান, দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার দিন তিনি মমতার ক্ষমতাচ্যুতি কামনা করেছিলেন, এবং তা ফলেছিল বলে দাবি তাঁর।
রেজিনগরের বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার একে রাজনৈতিক শালীনতার চরম অবক্ষয় বলে অভিহিত করেছেন।স্বাস্থ্য মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন,বাংলার রাজনীতিতে সৌজন্যতা এখন নিম্নমানে চলে গিয়েছে। এত নির্লজ্জভাবে কেউ এমন বলতে পারে, ভাবতেই পারিনি। হতে পারে উনি শুভেন্দু অধিকারীকে পছন্দ করেন না, ওঁর নীতি অপছন্দ হতে পারে। কিন্তু কারও মৃত্যুকামনা করা যায়? তীব্র নিন্দা করছি। শুভেন্দু অধিকারী কারও দয়ায় মুখ্যমন্ত্রী হননি, জনগণ মুখ্যমন্ত্রী করেছেন। আমি ওঁকে বলছি, হুমায়ুুন কবীর সাহেব- শকুনের অভিশাপে গরু মরে না।














