টানা বৃষ্টি। সঙ্গে দোসর মেঘলা আকাশ আর স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া। রোদের দেখা নেই। ফলে পুজোর মরশুমে মৃৎশিল্পীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। মূর্তি শুকোতে ভরসা সেই গ্যাস গান। হাতেগোনা আর কয়েকদিন বাকি পুজোর। এরই মধ্যে পড়ে গিয়েছে বিশ্বকর্মা প্রতিমা তৈরির কাজ। সময়ের মধ্যে সমস্ত প্রতিমা নির্মাণের কাজ শেষ করতে হবে। তাই রোদের ভরসা না করে গ্যাস গান দিয়ে শুকানো হচ্ছে প্রতিমা।
গত শনিবার থেকে রোদের দেখা নেই। টানা বৃষ্টিতে আর্দ্রতা বেশি। প্রতিমার গায়ে মাটির প্রলেপ পড়েছে। কিন্তু কাঁচা মাটি শুকোচ্ছে না কিছুতেই। হাতেগোনা মাত্র কয়েকটা দিন। কীভাবে প্রতিমা নির্মাণ শেষ হবে সেই চিন্তায় ঘুম উড়েছে কুমোরটুলির। মাতৃপ্রতিমায় রং করার সময় এসে গিয়েছে। গ্যাস গান চালিয়ে মাটি শুকানোর কাজ করতে গিয়ে বাড়ছে খরচ। একদিকে প্রতিমা তৈরির সরঞ্জামের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে, এখন প্রতিমা শুকোতে গিয়ে আরও খরচ বাড়ছে। ফলে এই মুহূর্তে সময়মতো প্রতিমা নির্মাণের কাজ শেষ করার রীতিমতো বড় চ্যালেঞ্জ পটুয়াপাড়ার ভাস্করদের কাছে।
শামুকতলার মৃৎশিল্পী বাবুয়া দাস বলেন, ‘একটানা বৃষ্টি হয়ে চলেছে। কখনও ভারী, কখনও হালকা বা মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। তবে একটানা মেঘলা এবং আর্দ্র আবহাওয়ার জেরে মাটির প্রতিমা শুকোনো হচ্ছে না। গ্যাস গান দিয়ে মাটি শুকোতে হচ্ছে।’
শক্তিনগর এলাকার প্রতিমা কারখানার শিল্পী বাপি দাস বলেন, ‘মজুরি, মাটি, রং থেকে শুরু করে সব জিনিসেরই দাম বেড়েছে হুহু করে। বর্ষায় মাতৃমূর্তি প্লাস্টিকের ছাউনি দিয়ে ঢেকে গ্যাস গান দিয়ে মাটি শুকোতে হচ্ছে। এতে খরচ বাড়ছে আরও। মাটি না শুকোলে তো রং করা যাবে না! হাতে যা সময় আছে তাতে রোদের ভরসা আর করা যাচ্ছে না।’
এদিকে, বিভিন্ন পুজো কমিটি প্রতিমার কাজ কতটুকু এগোল সেটা দেখতে হানা দিচ্ছে মাঝেমধ্যে। তারাও চাপ দিচ্ছে, দ্রুত প্রতিমা নির্মাণের কাজ শেষ করার জন্য। এতে চিন্তা আরও বাড়ছে। শক্তিনগর কালীবাড়ি পুজো কমিটির ঝন্টু রবিদাস বলেন, ‘অন্যবার রোদে প্রতিমা শুকানো হয়। কিন্তু এ বছর রোদের দেখা নেই। আমরা বলে দিয়েছি প্রতিমা সময়মতো দিতে হবে। কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য গ্যাস গান দিয়ে মাটি শুকানো হচ্ছে। আশা করছি, সময়মতো প্রতিমা পেয়ে যাব। তবে বৃষ্টি না হলে প্রতিমাশিল্পীদের প্রতিমার কাজ শেষ করার জন্য এত বেগ পেতে হত না।’














