রাজনীতির ময়দান হোক বা সংসদের ফ্লোর— মেজাজটা যে তাঁর এখন বেশ খোশখুশিল, তা আজ ফের প্রমাণ করলেন রাহুল গান্ধী। মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে মোদী সরকারকে তুলোধোনা করার মাঝেই আজ লোকসভায় এক ঝটকায় পরিবেশ হালকা করে দিলেন তিনি। সংরক্নিষণ বিল নিয়ে নিজের অবিবাহিত থাকার প্রসঙ্গ টেনে খোদ প্রধানমন্ত্রীকে এক সারিতে বসিয়ে রাহুলের সরস মন্তব্য— “প্রধানমন্ত্রী আর আমার তো আর গিন্নি নেই, তাই সেই অভিজ্ঞতা আমাদের হওয়ার নয়!
আসলে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুর একটি রসিকতা থেকে। রিজিজু জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল তাঁর স্ত্রীর জন্য কবিতা লিখেছিলেন বলে রিজিজুকে বাড়িতে কথা শুনতে হয়েছে। সেই রেশ ধরেই রাহুল আজ বলেন, “আমাদের জীবনে মা, বোন বা স্ত্রীদের অনেক বড় প্রভাব থাকে। তাঁরা আমাদের অনেক কিছু শেখান। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আর আমার তো আর ‘ওয়াইফ ইস্যু’ নেই, তাই ওই অভিজ্ঞতা বা ইনপুট আমরা পাই না। তবে মা আর বোনদের কাছ থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি।
রাহুলের এই ‘উইটি’ এবং কিছুটা ‘নটি’ মন্তব্যে ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে বিরোধী শিবির— হাসির রোল ওঠে সব দিকেই। তবে নিছক মজা নয়, এই হাসির ছলেই রাহুল বুঝিয়ে দিলেন, গিন্নি না থাকলেও নারীশক্তির গুরুত্ব তিনি বোঝেন। এরপরই নিজের বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর প্রশংসা করে বিজেপির সেকেন্ড-ইন-কমান্ডকে বিঁধতেও ছাড়েননি তিনি। রাহুল বলেন, “আমি গত ২০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে যা করতে পারিনি, প্রিয়াঙ্কা সেটা গতকাল পাঁচ মিনিটেই করে দেখিয়েছে— ও অমিত শাহজিকে হাসিয়ে দিয়েছে!
রাহুলের এই রসিকতা এবং একইসঙ্গে ধারালো রাজনৈতিক আক্রমণ আজ সংসদের বিশেষ অধিবেশনের অন্যতম চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গম্ভীর তর্কের মাঝে এমন চটপটে আন্দাজ রাহুলের নতুন রাজনৈতিক ব্র্যান্ডেরই পরিচয় দিচ্ছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।














