‘বাংলায় কালো টাকার হুন্ডি নিয়ে বসে আছেন। আর তৃণমূলের অফিসে রেড করছেন। আমার প্রার্থীর বাড়িতে রেড করছেন। আমার নিরাপত্তারক্ষীদের রেড করতে আসছেন’। দেবাশিস কুমারের বাড়িতে আয়কর তল্লাশি নিয়ে এভাবেই ক্ষোভপ্রকাশ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার উত্তরবঙ্গ সফর শেষে মমতা সরাসরি পৌঁছে যান পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর পূর্ব এবং দূর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রের দুই তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ মজুমদার এবং কবি দত্তের সমর্থনে নির্বাচনী প্রচার করার জন্য। দুর্গাপুরের প্রান্তিকা থেকে বেনাচিতি বাজারের ভিড়িঙ্গি মোড় পর্যন্ত অসংখ্য মানুষের উপস্থিতিতে পদযাত্রা করেন ২ প্রার্থী এবং দলের নেতা কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে। পদযাত্রার পাশাপাশি রাস্তার দুপাশে মমতাকে একটিবার দেখার জন্য উপস্থিত আবাল বৃদ্ধ বনিতার সঙ্গে মাঝে মাঝেই জনসংযোগ করতে দেখা গিয়েছে মমতাকে।
লোকসভায় আসন পুনর্বিন্যাস বিল প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না-থাকলে সংবিধান সংশোধন বিল পাশ করানো যায় না। আরে তুমি মেয়েদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের সঙ্গে ডিলিমিটেশন ঢুকিয়ে দিয়েছ? আমার পার্টির তো ৩৭ শতাংশ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি আছে। করে দেখাও। তোমার পার্টির মেয়েদের আগে জিতিয়ে দেখাও। টিকিট দিয়ে দেখাও। ইলেকশন আসলেই ভোট দাও, ভোট দাও। ইডি আছে, সিবিআই আছে, ইনকাম ট্যাক্স আছে, সেন্ট্রাল ফোর্স আছে। সকলকে একপক্ষ করে দিয়েছে। কোনও দিন এ জিনিস আমি দেশে দেখিনি। দিল্লি থেকে এল গাই, সাথে এল মোটা ভাই, নিয়ে এল ইডি-সিবিআই। পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে দেখে দেখে ভোট কাটেন। রাজবংশীদের ভোটও কেটেছেন। মতুয়াদেরও ভোট কেটেছেন।
এনআরসি-র নোটিস পাঠিয়েছে আমার রাজবংশী ভাইবোনেদের। গণতন্ত্র বুলেট নয়, ব্যালট। এটা মাথায় রাখবেন। গণতন্ত্রে বন্দুক নয়, ভোট হচ্ছে আসল ক্ষমতা। ভারতের সংবিধান বলেছে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা, সকলের সমান অধিকারের কথা। ফর্ম ফিলআপের নাম করে বাইরের সংস্থাকে ভাড়া করেছে। তারা আপনার বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম ফিলআপ করছে। বলছে টাকা পাবেন। আপনার নাম, পরিবারের নাম, ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট নম্বর নিচ্ছে। ওদের কথায় বিশ্বাস করবেন না। মতুয়াদের এই ভাবে সর্বনাশ করেছিল। কী করেছিল জানেন? ওদের একটা ফর্ম লিখিয়েছিল। ভোটাধিকার কোথা থেকে নাগরিকত্ব এসে গেল? এটা সিএএ-র নাম আরেকটা ভাঁওতা।’ শুক্রবার সকালে প্রথমে কোচবিহারের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির উদ্দেশ্যে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, ‘ভোটার তালিকা থেকে কোচবিহারে প্রায় দুই-আড়াই লক্ষ নাম বাদ দিয়েছে। ওরা জানে মানুষের ভোটে জেতার ক্ষমতা নেই। তাই সেন্ট্রাল ফোর্স, ইনকাম ট্যাক্স, ইডি, সিবিআই, পুরো ভারত সরকার, বিজেপির সব রাজ্যের সকলে এসে বসে গিয়েছে। তা-ও দেখুন লড়াই করছি একা।
কিন্তু আমি একা নই। আমার সঙ্গে ১০০ ভাগ মানুষ আছে। এখানে বিজেপির বড় নেতা, জ়েড প্লাস নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। হরিদাস। এক এক জন ২০-২৫টা সেন্ট্রাল ফোর্স নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। বাড়ি থেকে বেরোলে কেউ তাকিয়েও দেখে না। গুন্ডামি করছে সেন্ট্রাল ফোর্সকে সাথে নিয়ে। তাদের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে না, শুধু তৃণমূলের। ক’টা বিজেপির (নেতার) বাড়ি তল্লাশি হয়েছে আমি জানতে চাই। সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে লড়াই করে আমি ৩২ লক্ষ নাম তুলেছিলাম। গতকাল কোর্ট অর্ডার দিয়েছে, বাকিগুলো ট্রাইবুনালে বিচার হবে। যাদের নাম উঠে যাবে, তারা যেন ভোটার লিস্ট পায়— ওই দিন রাতে নজর রেখো। ভোটার স্লিপ এক্সট্রা করে রেখো। গণনায় এই সাত-আট দিন যাঁদের পাহারা দিতে বসাবেন, তাঁরা যেন টাকায় বিক্রি না হন। অনেক টাকা নিয়ে নেমেছে। কাউকে হয়তো ৫-১০ লক্ষ টাকাও দিচ্ছে। পোলিং এজেন্ট নেই। এজেন্সি দিয়ে ভয় দেখাচ্ছ। ওরা যে অবস্থায় গিয়েছে, ওরা পার্টি অফিসও চেক করতে পারে। মানে শেষ মরণকামড়।
ওই মরণকামড়ের বিষটা ভেঙে দিতে হবে। ওর কোনও ভ্যালু নেই। ভোটের পরে জ়িরো। এখন সব দেখাচ্ছে। ভোটের আগে ইডি-টিডি, সিবিআই-টিবিআই করে। তার পরে আজ পর্যন্ত কোনও কেস ফয়সলা করতে পারে না। নির্লজ্জ। ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। আমি যদি ভয় না পাই, আপনারা কেন ভয় পাবেন!’ তৃণমূলের দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মমতার পরামর্শ, ‘ভোটের দিন আমাদের শক্ত ঘাঁটিগুলিতে পুনর্নির্বাচন করার জন্য ওরা অনেক বদমায়েশি করবে। রিপোলের জন্যও রেডি থাকতে হবে। ভাল করে ভোট করবেন। রিপোল করলে করবেন। যে মানুষ আমাকে আজ ভোট দিয়েছেন, কালও দেবেন’।














